সাহিত্য

আল- ফাতিহা নাফসির লেখা "অপূর্ণতা"

আল- ফাতিহা নাফসি

শেয়ারঃ

আল- ফাতিহা নাফসির লেখা "অপূর্ণতা"- খবরের থাম্বনেইল ফটো

আল- ফাতিহা নাফসি

ঢাকার সাভার এলাকায় এক পুরাতন সরকারি কলোনি। তৃতীয় তলায় দক্ষিণ পাশের থ্রি-বি ফ্ল্যাটে স্ত্রী আর এক ছেলে নিয়ে শিহাব সাহেবের ছিমছাম পরিবার। অফিস শেষ করে বাসায় ফিরতে তার প্রায়ই সন্ধ্যা হয়। শিহাব তাঁর বাসার দরজায় ঠকঠক করে শব্দ করে। আশেপাশের প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজায় কলিং বেল আছে। কলিং বেলের শব্দে শিহাবের মাথা ধরে। তাই সে নিজের ফ্ল্যাটে এই যন্ত্রটি লাগায় না।তার স্ত্রী রুতসি আক্তারের অবশ্য ভিন্ন কথা। সে বলে টাকা খরচ করে যন্ত্রটা খরিদ করতে হবে শিহাব,শহরের একটা ফ্ল্যাটে কলিং বেল না বাজিয়ে কেউ এসে জোরে জোরে দরজা ধাক্কাধাক্কি করবে এই বিষয়টা রুতসির পছন্দ না।তাই সে একটা কলিং বেল এর জন্য স্বামীকে জোর দিয়েছিল। স্ত্রীর কথায় শিহাব বিগলিত হয়নি; ফলস্বরূপ প্রতিদিন অফিস থেকে ফিরে পাক্কা তিন মিনিট তাকে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।রুতসি ইচ্ছা করে দেরিতে দরজা খোলে যাতে শিহাব বিরক্ত হয়ে কলিং বেল কিনে আনে।কিন্তু এতেও কাজ হয়না।


প্রতিদিনের মত আজ পাক্কা তিন মিনিট পর দরজা খুলে শিহাব রুতসির মুখ দেখতে পায়।সে হালকা হাসি দিয়ে স্ত্রীর দিকে টিফিনবাক্সের ব্যাগ এগিয়ে দেয়।ব্যাগটা হাতবদল করার সময় আস্তে করে স্ত্রীর হাতে চাপ দেয়।এটা পুরাতন অভ্যাস;ব্যাগে করে কিছু নিয়ে আসলে সে এভাবে স্ত্রীর হাত চেপে দেয়।এর মানে হলো তোমার জন্য একটা বিশেষ জিনিস নিয়ে এসেছি, দ্রুত ব্যাগটা খুলে দেখো।রুতসি ব্যাগ হাতে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে চলে যায়।শিহাব জুতা খুলে শোবার ঘরে গিয়ে পোশাক বদল করে বাথরুমে প্রবেশ করে। শিহাবের অফিস থেকে বাসার দূরত্ব খুব বেশি না।তাই সে পায়ে হেঁটেই অফিসে যায়।অফিস থেকে ফেরার পথে পার্কের মত একটা জায়গা আছে। যেদিন অফিসে একটু বেশি কাজের চাপ থাকে সেদিন সে বাসায় ফেরার সময় ঐ জায়গাটায় বসে একটু জিরিয়ে নেয়।আজকে তার অফিসে কাজের তেমন চাপ ছিলনা।তবুও সে আজকে ঐ পার্ক-সদৃশ জায়গায় বসেছিল কারণ আজকের দিনটা অন্যসব দিনগুলো থেকে আলাদা, বিশেষ একটা দিন।ঠিক দশ বছর আগে এই দিনটিতে সে প্রথমবার রুতসির বাড়িতে তাকে দেখতে গিয়েছিল।সাথে ছিল তার বাবা,চাচা, এবং ঘটক মনু মিয়া।কনে পছন্দ হওয়ায় ঐদিনই তাদের বিয়ের পাকা কথা হয়ে যায়।তার ঠিক চৌদ্দ দিন পরেই রতসি শিহাবের ঘরে বউ হয়ে আসে। বিয়ের প্রথম প্রথম এই দিনটায় সে স্ত্রীকে উপহার দিত।গত তিন বছর এই দিনটার কথা ভুলে গেছে ।তবে এবার তার মস্তিষ্ক তার সাথে প্রতারণা করেনি।সকালে ঘুম থেকে জেগে মোবাইলে তারিখ দেখতেই শিহাবের দশ বছর আগের এই দিনটির কথা স্মরণ হয়।তাই অফিস থেকে ফেরার পথে ঐ জায়গাটায় বসে স্ত্রীকে কি উপহার দেওয়া যায় তাই নিয়ে সে ভাবে।সে দেখতে পায়,তার আশেপাশে আট-দশ বছরের একটা মেয়ে ঘুরঘুর করে কিন্তু কিছু বলেনা।মেয়েটার হাতে বকুল ফুলের মালা।বকুল ফুল রুতসির বিশেষ পছন্দের।বাবার বাড়িতে একটা বকুল ফুলের গাছ ছিল। কৈশোর বয়সে প্রতিদিন ভোরে সে ফুল কুড়াতে যেত।রুতসি তার সাথে ফুল কুড়ানোর গল্প করেছে। তাদের বিয়ের বছর হঠাৎ বকুল গাছটা মারা যায়।শিহাব মালা হাতে নেয়া মেয়েটাকে কাছে ডাকে।দামাদামি করে মেয়েটি ত্রিশ টাকার বিনিময়ে দুটি মালা বিক্রি করতে রাজি হয়।ভালো দেখে বেছে দুটি মালা নেয়।মালা দুটি যত্ন করে কাগজে মুড়িয়ে টিফিনবাক্সের ভিতরে রাখে। মেয়েটিকে সে একশো টাকার একটা নোট দেয়।মেয়েটি সত্তর টাকা ফেরত দিতে চাইলে শিহাব তা নেয় না।


বাথরুম থেকে বের হয়ে তার ছেলে আতিককে পড়াতে বসে।আতিক কলোনির কাছেই একটা সরকারী স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ে।সে অংকে একটু কাঁচা। একটা অংক দুই-তিনবার বুঝিয়ে দিলেও তার মাথায় ঢুকতে চায় না।এতে করে কখনো কখনো শিহাবের মেজাজ বিগড়ে যায়।চোয়াল শক্ত করে সে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে।তবে কখনোই সে ছেলের গায়ে হাত তোলে না। আজ শিহাবকে বেশ খোশমেজাজে মনে হয়।একই অংক ছেলেকে পাঁচবার বুঝিয়ে দিয়েও সে বিরক্ত হয়না। হাসিমুখে ছেলেকে জিজ্ঞেস করে আবার বুঝিয়ে দিবে কিনা।পড়া শেষে ছেলেকে কোলে বসিয়ে নিজের শৈশবের গল্প শোনায়। বাবার কোলে বসে আতিক একটু লজ্জা পায়, তবে খুশি হয় অনেক বেশি।


খাবার টেবিলেও আজ শিহাবকে বেশ হাসিখুশি দেখায়।মুখে খাবার তুলে নেওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ছেলের সাথে খোশগল্প জুড়ে দেয়।বাবার হাস্যরসাত্মক গল্পে ছেলে শব্দ করে হেসে প্রতিক্রিয়ার জানান দেয়।এমনিতে শিহাব তেমন একটা মিষ্টভাষী নয়।বহুবার রুতসির কণ্ঠে অভিযোগ শুনতে হয়েছে, "তোমার মতন এমুন ম্যাদামারা মরদ জীবনেও দেখি নাই।"এখানে উল্লেখ্য বিগত দশ বছরে বেশভূষা- চালচলনে পুরোপুরি শহরে হয়ে উঠলেও রুতসি তার বাপ দাদার মুখের কথা এখনো ছাড়তে পারে নাই।তবে তার চেষ্টার কোনো কমতি নেই। কথার মাঝখানে যেন আঞ্চলিক শব্দ ঢুকে না যায় এ বিষয়ে রুতসি বেশ সতর্ক এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সফলও বটে। তবে কোন কারণে সে চটে গেলে ভাষাপ্রয়োগের এই সতর্কতার কথা তার মাথায় থাকেনা। আর ছেলে আতিকের নানা কর্মকান্ডে প্রায় প্রতিদিন রুতসি মেজাজ বিগড়ে যায়। তখন সে আঞ্চলিক ভাষায় অনর্গল স্বামী-সন্তানের শ্রাদ্ধ করে।


খাবারের পর্ব শেষ হলে আতিক তার রুমে পড়তে চলে যায়।রুতসি খাবারের উচ্ছিষ্ট, এঁটো বাসনকোসন নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যায়। শিহাব শোবার ঘরে গিয়ে টিভিসেট চালু করে বসে। রিমোট চেপে বারবার চ্যানেল বদলায়।দেশী-বিদেশী কোনো চ্যানেলের অনুষ্ঠানই তাকে আকর্ষিত করেনা।চল্লিশের কোটা পার করা শিহাব সদ্য প্রেমে পড়া যুবকের মতো ভিতরে একটা চাপা উত্তেজনা অনুভব করে।বারবার সে দরজার দিকে তাকায়।কখন রুতসি এঁটো করা থালাবাসন মাজবে।কিছুক্ষন পর যখন থালাবাসন মাজা শুরু করে,তখন একটা সময়ে টিফিন বক্সে সেই বকুল ফুলের মালা খুঁজে পায়।রুতসির মুখে হাসি ফিরে আসে।তারপর শিহাবকে গিয়ে জড়িয়ে ধরে।এভাবে অনেকদিন চলতে লাগলো।


মার্চের ৭,


শিহাব অনেক খুশি।আজকের দিনটার জন্য বহুদিন ধরে অপেক্ষা করছে। কত টালবাহানা তার,কত আয়োজন কিন্তু সবই আমার আড়ালে।আমি কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেও ওকে বুঝতে দিই নিই।আমাকে বললো, আজকে একটু রেডি হয়ে থেকো।আমি আর জিজ্ঞেস করতে গেলাম না,কিসের জন্য? একটু মুচকি হেসে বললাম, তা আজকে কি!


আমি অফিস জলদি শেষ করে আসবো।তারপর তোমাকে নিয়ে বের হবো।তুমি রেডি হয়ে থেকো।


-এখন আসি আমি।


-আচ্ছা সাবধানে যেও


-আসো।


আমি সব ঘরের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করলাম।ওর পছন্দের শাড়িটা বের করলাম। ভাবলাম আজকে ওর যা পছন্দ তা পড়বো।ওকে একটু চমকে দিবো।হাতে কাচের চুড়ি, কপালে টিপ ওর ভারি পছন্দ। সেজেগুজে ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।আমাকে বলেছিলো পাঁচটায় আসবে। টাইমের আগেই ও চলে আসছে, বিশ মিনিট আগেই।আমি তো অবাক হয়ে গেলাম।যখনি কলিং বেল চাপলো আমি দরজা খুললাম।আমরা বের হলাম।তারপর দেখলাম সুন্দর একটা সতেজ বেলি ফুলের মালা ও আমার মাথায় পড়িয়ে দিলো।আমি বললাম বাহ,এত সুন্দর সুগন্ধ আসতেছে।মনটা খুশি হয়ে গেলো।পরক্ষনে ওর একটা কল আসে।খুব তাড়াহুড়া ছিলো বুঝতে পেরে আমি বলে ফেললাম কি সমস্যা! বললো,আমার এখন একটু আসা লাগবে।আমি বললাম,আসো।আজ চার বছর পেরিয়ে গেলো।একই দিন আজ,আমি একই সাজে কিন্তু চারদিকে সব শূন্যতা আমাকে যেন জড়িয়ে ধরে! চারটা বছর কেটে গেলো। এখনো শূন্যতা চারিদিকে। আমি আমার ছোট মেয়ে মিতুকে নিয়ে কোনভাবে জীবনযাপন শুরু করলাম। মিতু ক্লাস থ্রি তে পড়ে।এলকায় বড় নামি-দামি স্কুলেই ভর্তি করলাম।মেয়েকে আমি যতটুকু পারি আমার সাধ্যমতো সব দেয়ার চেষ্টা করি। আমি মিতুকে কোনকিছু নিয়ে অভাব বুঝতে দেই না। তবুও মিতু বাবার পরিচয় দিতে পারে না। আমিও চুপ থাকি,মেয়েকে ভুলিয়ে রাখি।এখন আমি নিজেই পড়াই মিতুকে। আমিই মিতুর ভালো বন্ধু।


আমি সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। দুই ভাই আর তিন বোন আমার।সুখী পরিবার ছিলো। বাবা ব্যবসা করতেন তবুও আমাদের সংসারে কোন টানাটানি ছিলো না।বড় ভাই ওকালতি করেন,ছোটটা আমার থেকে ছোট। বোন দুইজনের বিয়ে হয়ে গেছে।আমি কলেজ পাশ করলাম।তখনি আমার শিহাবের সাথে পরিচয়।একই কলেজে ছিলাম।একসময় আমাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়।বাসায় আমি জানালাম আমাদের ব্যাপারে।মা একটু সম্মতি দিলেও বাবা রাজি হলো না।বাবার কথাই শেষ কথা এটাই আমাদের তখন নিয়মের আওতায়। আমি অনেকবার ভাবলাম, কি করবো আমি।শিহাব আমাকে আশ্বাস দিলো।একদিন আমি বাড়ি ছেড়ে দিলাম।


আমার আর যোগাযোগ করা হয়ে উঠে নাই কারো সাথে। প্রায় ছয় মাস।আমাকে মা একবার টেলিফোন করেছিল।আমি রিসিভ করতে না পারায় আবার কল দেই।পরে আর টেলিফোনে কাউকে পাওয়া যায়নি।একবছর পর আমি আর শিহাব একটু বাইরে ঘুরতে গেলাম।আমরা মাঝেমধ্যেই বের হতাম।শিহাব একটু সময় পেলেই আমাকে সময় দিতো।আর আমরা শহরের চারিদিকে হাটাহাটি করতাম।ফুচকা আমার খুব পছন্দের। বাইরে বের হলেই শিহাব আমাকে ফুচকা কিনে খাওয়াতো।আর বাসায় ফেরার পথে দুইজন আইসক্রিম হাতে নিয়ে পাচ দশ মিনিট হেটে তারপর বাসায় যেতাম।ওইদিন আমার ছোট ভাই লিটনের সাথে দেখা।লিটন আমাকে বললো, মা আমাকে একটি সংবাদ দিতেই হঠাৎ টেলিফোন করেছিল।আমার হাত থেকে ফুলগুলো পড়ে গেলো।


শিহাব আমাকে কয়েকটা গোলাপ কিনে দিয়েছিলো।আমার কানে একটা শব্দ বারবার বাজতে লাগলো।"বাবা আর নেই।"এতবছর আমার কারো সাথেই কোন যোগাযোগ নেই। কিন্তু যখন এই কথাটা শুনলাম তখন আমার নিজেকে এর জন্য দায়ী মনে হয়।আমি ভেঙে পড়ি।শিহাব তখন আমার পাশে ছিলো।আমাকে সাপোর্ট করতো সবসময়। আমি কিছুদিন অসুস্থ হয়ে পড়ি।আমি ভাবতে থাকি,বাবার শেষ চেহারাটা আমি দেখতে পারলাম নাহ।আমি ওইদিন কল রিসিভ করতে না পারার জন্য আমি অনুতপ্ত বোধ করি।


মিতু স্কুল থেকে চলে আসছে।এসেই বললো,মা শিপার জন্মদিন কাল।আমাকে দাওয়াত দিয়েছে।আমি বললাম আচ্ছা যেয়ো।মিতু আমাকে বললো,মা তুমিও আমার সাথে যাবা।অনেক জোর করায় আমি রাজি হয়ে গেলাম। শিপার জন্মদিনে যাওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিলাম।বেশ ঝাকানাকা ভাবেই পালন করবে।বড় কোটিপতির মেয়ে।আমি মিতুর জন্মদিনে কেক এনে নিজেই পালন করি।সবার তো এক কপাল নাহ।এটা ভেবে মেয়ের দিকে তাকিয়ে আমার চোখের কোণে কিছুটা জলের মেঘ এসে জমা হয়।জন্মদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাই বিভিন্ন গেমের আয়োজন করে।মিতুও সেখানে যায়।সবাইকে বিভিন্ন কুয়েশ্চন করা হয়।আমার মিতুকে জিজ্ঞেস করা হয় তোমার সম্পর্কে বিস্তারিত বলো।মিতু বলতে শুরু করলো।


একটা সময়ে মিতু আটকে যায়।তার বাবার পরিচয় অজানা তার কাছে।আমার কাছে মিতু জিজ্ঞেস করলেও আমি কিছু বলি নাহ এই ব্যাপারে।মিতু তটস্থ হয় একটু।আমরা খাওয়াদাওয়া শেষ করে চলে আসি নিজ বাসায়।আমি আমার রুমে একা বসে থাকি।রাত এগারোটা।আমার চোখে ঘুম আসতেছে না।হঠাৎ আজ শিহাবের কথা খুব মনে পড়তেছে। আমি আবার অনুভব করতে পারতেছি। দীর্ঘ চার বছর পর। চার বছর আমার মিতুর জন্য আমি সব চাপা দিয়ে রেখেছি।একসময় শিহাবের সেলফে চোখ গেলো।একটা ডায়েরি পেলাম।শিহাবের রুমে আমি এখন আর তেমন আসি না।ডায়েরি খুলে দেখলাম শিহাবের কিছু লেখা।


পড়তে পড়তে একসময় দেখলাম শিহাব কিছুদিন দুশ্চিন্তায় ছিলো।তার লেখায় সেটা প্রকাশ পেয়েছে।হতাশায় ভুগেছে কিছুদিন।কিন্তু আমি তখন কোনকিছু টের পাইনি। আমি ডায়েরিটা এখানেই ক্লোজ করে দিলাম।আমি একটা ব্যাংকে জব করি।মোটামুটি মাইনে পাই।এই নিয়েই আমার আর মিতুর সংসার।একদিন শিহাবের এক বন্ধু রিতন আমার খোঁজে ব্যাংকে আসে।তারপর আমার সাথে গল্প করতে করতেই শিহাবের কথা বলে।আমি কান্না করে ফেলি।শিহাব তার এই বন্ধুর ফোনেই ওদিন বেরিয়ে পড়েছিলো।শিহাব টেনশনে পড়ে গেছিলো।তার বন্ধু রিতন সাহেবের ব্লাডের প্রয়োজন ছিলো।তাড়াহুড়ায় শিহাব আমাকে এই কথাটা বলে যেতে পারেনি।


রাস্তায় শিহাবের গাড়ি হঠাৎ ব্রেক ফেইল করে।গাড়ির হর্ণ বেজে উঠলো। আবার আমি আমার রুমে ডায়েরিটা নিয়ে ঘুমাতে গেলাম।ডায়েরিতে লেখাগুলো আবছা কুয়াশার মতো লাগা শুরু করলো।আজও অস্পষ্ট শিহাব দুশ্চিন্তায় কেনো ছিলো।আজও এর কোন উওর মিলেনি।হয়তো ওর বন্ধু অসুস্থ ছিলো তাই বা অন্যকিছু। মিতু সকালের খাওয়া শেষ করে স্কুলে যাবে,আমি মিতুকে এগিয়ে দিয়ে আসলাম।স্কুল শেষে আমরা আবার কিছু টাইম হাটাহাটি করে, আইসক্রিম কিনে বাসায় চলে আসলাম নিজ গন্তব্যে।


সম্পর্কিত খবর