আন্তর্জাতিক

ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই করা জাপানি যোদ্ধা ওকামোতো মারা গেছেন

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই করা জাপানি যোদ্ধা ওকামোতো মারা গেছেন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের পক্ষে লড়াই করা জাপানি প্রতিরোধ যোদ্ধা কোজো ওকামোতো বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ৭৮ বছর বয়সে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে মারা গেছেন। তিনি তার জীবনের বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন লেবাননে।


ফিলিস্তিনিদের কাছে 'আহমদ আল-ইয়াবানি' বা 'জাপানি আহমদ' নামে পরিচিত এই যোদ্ধা লেবাননে স্থায়ী হওয়ার পর খুব একটা প্রকাশ্যে আসতেন না। তবে ফিলিস্তিনের মুক্তিসংগ্রামের আন্তর্জাতিক সংহতির এক অনন্য প্রতীক হয়ে ছিলেন তিনি।


এই বামপন্থী নেতা ১৯৭২ সালে ইসরায়েলের লড বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে একাই ২৬ জন ইসরায়েলিকে হত্যা করেন।


লেবাননে থাকাকালীন ওকামোতোকে সুরক্ষা দিয়েছে, পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অফ প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)। গত বৃহস্পতিবার এ সংগঠনটি তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করেছে। ওকামোতো দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছিলেন।


লেবাননকে নিজের বাসস্থান বানানোর পর তিনি জনসমক্ষে খুব কমই আসতেন, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির এক বিশিষ্ট প্রতীক হিসেবেই থেকে যান।


পিএফএলপি বলেছে, ওকামোতো তার জীবন ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি কখনোই আপোস করেননি বা বিচলিত হননি, বরং নিজের নীতিতে অটল ছিলেন।


১৯৭২ সালের ৩০ মে, ওকামোতো তেলআবিবের কাছে লড বিমানবন্দরে (বর্তমানে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর) জাপানি রেড আর্মির অন্য দুই সদস্যের সঙ্গে একটি হামলায় যোগ দেন।


এই তিনজন ইউরোপ থেকে একটি ফ্লাইটে এসে নিজেদের লাগেজ থেকে রাইফেল ও গ্রেনেড বের করে গুলি চালাতে শুরু করেন। ওকামোতোর দুই কমরেড নিহত হন এবং ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আহত অবস্থায় বন্দী করে।


পিএফএলপি জানায়, ১৯৬৮ সালে বৈরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলের হামলার জবাবে ওই অভিযান চালানো হয়। সেই হামলায় ইসরায়েলি কমান্ডোরা এক ডজনেরও বেশি বেসামরিক বিমান ধ্বংস করে, যার ফলে ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছিল।


একটি ইসরায়েলি আদালত ওকামোতোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবে ইসরায়েল তাকে ১৯৮৫ সালে ১২ বছর কারাভোগের পর মুক্তি দেয়।


পিএফএলপির তথ্যমতে, কারাগারে থাকাকালীন ওকামোতো তার সাজার বেশিরভাগ সময় নির্জন কারাবাসে কাটান এবং তাকে পিঠের পেছনে হাতকড়া পরিয়ে কুকুরের মতো মাটি থেকে খেতে বাধ্য করা হতো।


পরে তিনি লেবাননে পৌঁছান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। তার বিচার চলাকালীন, ওকামোতো নিজেকে "একজন আরব প্রতিরোধ যোদ্ধা" হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।


জাপানি রেড আর্মি ১৯৭১ সালে ফিলিস্তিনি সংগ্রামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অবশেষে বিলুপ্ত হওয়ার আগে এটি বিদেশে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করেছিল।


ওকামোতো তার মৃত্যু পর্যন্ত লেবাননেই ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে তার সমর্থকরা তাকে এমন একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণ করেন, যিনি ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইরত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজের মাতৃভূমি ত্যাগ করেছিলেন।


ফিলিস্তিনি ও লেবাননের মজলুম মানুষের হৃদয়ে কোজো ওকামোতো আজীবন শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।


সম্পর্কিত খবর