ক্যাম্পাস
গোবিপ্রবিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাসসেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) প্রতি ঘণ্টায় বাসসেবা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। নির্ধারিত সময়ে বাস না থাকায় অনেকেই সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছাতে পারছেন না। এতে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
গত কিছুদিন আগে পরিবহন প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাচুড়িয়া ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। নিরাপত্তা ও যাতায়াত ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৫ জুন ২০২৬ থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকাল ১০টা, সকাল ১১টা, দুপুর ১২টা, দুপুর ২টা এবং বিকেল ৩টার ট্রিপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এ সময় শুধুমাত্র সকাল ৮:৩০, সকাল ৯:২০, দুপুর ১:১০, বিকেল ৪:১০ এবং রাত ৮:৩০টার ট্রিপ চালু থাকবে। ব্রিজ মেরামতের কাজ শেষ হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
জানা যায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এর মধ্যে মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী আবাসিক হলে থাকার সুযোগ পান। বাকি প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে যাতায়াত করেন, যাদের প্রধান ভরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাসসেবা সীমিত থাকায় প্রতিদিনই দুর্ভোগে পড়ছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেক সময় বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইজিবাইক বা অন্যান্য যানবাহনে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বাড়ছে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো ক্লাস ও পরীক্ষায় অংশ নিতে না পেরে একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এদিকে, আবাসিক ও অনাবাসিক—উভয় ধরনের শিক্ষার্থীই প্রতি সেমিস্টারে পরিবহন ফি বাবদ ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন। এত অর্থ প্রদান করেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে পরিবহন প্রশাসক সহকারী অধ্যাপক হাশেম রেজা বলেন, “পাচুড়িয়া ব্রিজের কাজ চলমান থাকায় বর্তমানে বাসগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে গত অর্থবছরের মতো এবারও একই বাজেট বরাদ্দ থাকলেও তেলের দাম লিটারপ্রতি বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের মতো প্রতি ঘণ্টায় বাস পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এভাবে বাস চালানো হলে অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দের অর্থ শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “নবীনবাগ এলাকায় শিক্ষার্থী তুলনামূলক বেশি থাকায় সকাল ১১টা ও ১২টার বাসের মধ্যে অন্তত একটি ট্রিপ পুনরায় চালুর জন্য আমরা চেষ্টা করব।”







