ক্যাম্পাস
যথাযথ মর্যাদায় রুয়েটে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ, আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি, বৃক্ষরোপণ, চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং বিশেষ মোনাজাতসহ দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সকালে প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে ‘জুলাই-২০২৪ গণঅভ্যুত্থান’ স্মরণে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে তালাইমারী মোড় ঘুরে আবার প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবনের ২১৭ নম্বর কক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা নিজস্ব অঙ্কন সামগ্রী নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রতিযোগিতার জন্য লেখা জমা দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মোনাজাত শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে বলেন, ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া, শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা জোরদার করতেই এ কর্মসূচিগুলোর আয়োজন করা হয়েছে।







