জাতীয়
ঢাকা-১১ আসনে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে: নাহিদ ইসলাম

ঢাকা-১১ আসনের অন্যতম প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক এবং দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সমস্যার মূল কারণ ভূমিদস্যুতা—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও দলটির মনোনীত প্রার্থী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে ঢাকা-১১ আসন থেকে ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট চিরতরে নির্মূল করা হবে।
রোববার রাজধানীর মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে এনসিপি মনোনীত ও ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গত তিন দশক ধরে ঢাকা-১১ আসনে ভূমি দখল, খাসজমি ও জলাশয় দখলের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একসময় যারা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তারাই ভাগ–বাঁটোয়ারা করে শত শত মানুষের জমি দখল করেছেন। আগস্টের আগে ও পরে কেবল দখলদারদের মুখ বদলেছে, কিন্তু দখল ও চাঁদাবাজির রাজনীতি বহাল রয়েছে।
তিনি বলেন, “এই এলাকার শত শত মানুষের ব্যক্তিগত জমি, খাসজমি ও জলাশয় দখল করে ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে এসব ভূমিদস্যুতার সঙ্গে জড়িত।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের সামনে দখলদার, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও ঋণখেলাপিদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ এসেছে। নির্বাচিত হলে এই আসনের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা এবং ভূমিদস্যুদের সিন্ডিকেট নির্মূল করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি উপস্থিত জনতাকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, তিনি এই এলাকার সন্তান হিসেবেই কথা বলতে এসেছেন। নাহিদ ইসলাম জানান, তাঁর জন্ম ঢাকার বেরাইদে এবং শৈশব কেটেছে বাড্ডা–রামপুরা এলাকায়। রাজধানীর এত কাছে থেকেও বাড্ডা–ভাটারা এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ভেতরের দিকে গেলে মনে হয়, এটি ঢাকা নয়—মফস্বলের কোনো এলাকা। অথচ এই এলাকাই জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন ও প্রতিরোধের অন্যতম হটস্পট ছিল।”
ঢাকা-১১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে এই এলাকার মানুষ জীবন দিয়েছে, আহত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেও বাড্ডা, বেরাইদ ও আশপাশের এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় কয়েক দিন এই আসনের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। জীবনের দীর্ঘ সময় এই এলাকা তাঁকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে বলেন, এখন তিনি ঢাকা-১১ আসনের মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ব ও ঋণ শোধ করতে চান।
নাহিদ ইসলাম জানান, ঢাকা-১১ আসনে প্রায় ১৫ লাখ মানুষের বসবাস থাকলেও নাগরিক সুবিধা চরমভাবে অপ্রতুল। পর্যাপ্ত স্কুল, হাসপাতাল ও খেলার মাঠ নেই। পুরো আসনে কোনো সরকারি হাসপাতাল নেই এবং একটি সরকারি হাইস্কুলও নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মাত্র ১৫টি।
তিনি বলেন, বাড্ডা–ভাটারা এলাকার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ ইনফরমাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং শিক্ষিত বেকারের হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত প্রায় পুরোপুরি বেসরকারি খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার চিত্র তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকার প্রায় ৬০ শতাংশ তলিয়ে যায়। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ এলাকায় পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। রামপুরা খাল, শাহজাদপুর খাল ও বালু নদ দখল ও ভরাটের কারণে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
তিনি সারা দেশে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, শুধু ঢাকা-১১ নয়, সারা বাংলাদেশে এই জোট জয়ী হবে।
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশকে নতুন করে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করতে ১২ ফেব্রুয়ারি দখলদারমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।








