জাতীয়
রাজধানীতে ঈদ জামাতের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে: ডিএমপি

রাজধানী ঢাকায় ঈদ জামাতকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মো. সরওয়ার বলেন, পুরো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানসহ আশেপাশের এলাকায় সিসি ক্যামেরা দিয়ে মনিটরিং করা হবে।
ঈদগাহ ময়দানে আসার প্রধান তিনটি সড়কের প্রবেশ মুখ মৎস্যভবন, প্রেস ক্লাব ও শিক্ষাভবনে ব্যারিকেড থাকবে, যাতে করে জামাতে আগতদের গাড়ি ছাড়া অন্যান্য গাড়ি এই ঈদগাহ ময়দানের আশেপাশের রাস্তায় না আসে। সেখানেও আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
তিনি বলেন, ঈদ জামাতের চারদিকে পুলিশের পেট্রোলিং থাকবে। মূল গেট হয়ে সব মুসল্লিদের প্রবেশ করতে হবে। নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশ গেট ও পৃথক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
ঈদগাহ ময়দান ও আশেপাশের এলাকায় ডিএমপি’র বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি’র ডগ স্কোয়াড ও সুইপিং টিম নিয়োজিত থাকবে।
মো. সরওয়ার বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
এখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করবেন।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠেয় ঈদ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি সমন্বিত ও সুবিন্যস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ঈদে নিরাপত্তার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি আছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ঈদগাহে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। ঈদ জামাতে প্রবেশ গেটে তল্লাশির জন্য আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর থাকবে।
তিনি বলেন, ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরা এলাকা ঘিরে অন্য একটা বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলয় তৈরি করতে সোয়াট, সাদা পোশাকে ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা ঈদগাহে দায়িত্ব পালন করবেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমাদের অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় থাকবে। সে অনুযায়ী আমাদের ডিএমপির পুলিশ সদস্যরা কাজ করবে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার টেন্ডার প্রস্তুত থাকবে ও মেডিকেল থেকে ইমারজেন্সি মেডিকেল টিম থাকবে। বায়তুল মোকাররম কেন্দ্রিক আলাদা কিন্তু প্রায় কাছাকাছি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে তল্লাশি কাজে সহায়তা করতে হবে। গেট দিয়ে প্রবেশ করতে হবে, ব্যাগ বা কোনো কিছু আনা যাবে না। অন্যান্য যে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুরোধ সেটা রাখতে হবে। সন্দেহজনক কোনো কিছু মনে হলে নিকটস্থ পুলিশকে বা ৯৯৯-এ জানাতে হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন, জিরো পয়েন্ট ক্রসিং, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, হাইকোর্ট ক্রসিং, প্রেস ক্লাব লিংক রোড, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পেছনের গলি, ইউবিএল বা পল্টন ক্রসিং, পুলিশ কন্ট্রোল রুম গ্যাপ, মৎস্যভবন ক্রসিং এলাকায় পুলিশের ডাইভারশন থাকবে। এসব এলাকা থেকে মুসল্লিদেরকে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে প্রবেশ করতে হবে।
নির্ধারিত পার্কিং স্থানের বাইরে গাড়ি নিয়ে আশেপাশে ঢোকার চেষ্টা না করতে সবাইকে অনুরোধ করেন তিনি।








