ক্যাম্পাস

বঙ্গভবনে কুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, ৪র্থ সমাবর্তনে আসার সম্মতি

কুয়েট প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

বঙ্গভবনে কুয়েট উপাচার্যের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ, ৪র্থ সমাবর্তনে আসার সম্মতি- খবরের থাম্বনেইল ফটো

কুয়েট প্রতিনিধি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ২০২৭ সালের ১৪ জানুয়ারি নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে কুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।


মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুয়েট উপাচার্যের সাক্ষাতের বিষয়টি বাসসের প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।


সাক্ষাৎকালে উপাচার্য কুয়েটের বর্তমান একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, চলমান বিভিন্ন প্রকল্প এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।


কুয়েটের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হয়ে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন বলে কুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জাতীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে উচ্চশিক্ষার সুযোগকে রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বিস্তৃত করার ওপর জোর দেন।


এ সময় জনকল্যাণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ন্যানো ও জৈবপ্রযুক্তি এবং সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।


রাষ্ট্রপতি বলেন, "এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জনকল্যাণে এ প্রযুক্তির পরিমিত ও দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।"


সাক্ষাৎকালে কুয়েটের ৪র্থ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার সম্মতি জানান।


কুয়েটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ১৪ জানুয়ারি ২০২৭ নির্ধারণের নির্দেশনা দেওয়া হলেও চূড়ান্ত তারিখ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তীতে নির্ধারণ করবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হবে।


সাক্ষাৎকালে কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এম. এ. হাসেম, রসায়ন বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. আশরাফুল গনি ভূঁইয়া, প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রফিক, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাম্মদ শাহজাহান আলী, প্রফেসর ড. মোঃ রোকনুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ ফারুক হোসেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ ইলিয়াছ ইনাম, প্রফেসর ড. মোঃ শরিফুল ইসলাম, এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ হাসান আলী এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুবাইয়াত মোস্তাক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।


কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের এ সাক্ষাতে শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। রাষ্ট্রপতির সহযোগিতার আশ্বাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছে কুয়েট কর্তৃপক্ষ।


▌সম্পর্কিত খবর