জাতীয়

সব নাগরিকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: তারেক রহমান

ডেস্ক

শেয়ারঃ

সব নাগরিকের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই লক্ষ্য: তারেক রহমান- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দলটির লক্ষ্য এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করা, যেখানে দেশের সব নাগরিক দিন-রাত যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন এবং পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। তিনি বলেন, একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির রাজনীতির মূল অঙ্গীকার।


সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে আয়োজিত ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। জনসভায় তিনি ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন।


তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর ধরে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ধারাবাহিকভাবে হরণ করা হয়েছে। এ সময়ে বহু মানুষ হত্যা, গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা রক্ষা করা এবং একটি নিরাপদ রাষ্ট্র গঠন করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।


তিনি আরও বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। মানুষের মূল্যায়ন হবে তার যোগ্যতা, মেধা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকেই দিতে হবে।


নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে অপরাধ প্রবণতা কমে আসে। সে কারণে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।


নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না করা গেলে প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। একইভাবে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘কৃষি কার্ড’ চালুর কথাও জানান বিএনপির এই নেতা।


স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনো ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে রোগ প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়িয়ে একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।


দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, অথচ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামো পুনর্গঠন জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।


তারেক রহমান জানান, আজ তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকা ছাড়াও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেবেন। এসব জনসভায় তিনি বিএনপির রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপরেখা তুলে ধরবেন। এর আগে রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে জনসভায় অংশ নেন।


সম্পর্কিত খবর