আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্লাস্টার হামলায় ইসরাইলের আয়রন ডোমে চ্যালেঞ্জ

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

ইরানের ক্লাস্টার হামলায় ইসরাইলের আয়রন ডোমে চ্যালেঞ্জ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ইরানের ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার ইসরাইলের বহুতর বিশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমকে চ্যালেঞ্জ করছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষে ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর’ দিয়ে ক্লাস্টার ওয়ারহেড হামলা চালাচ্ছে, যা একাধিক ছোট বোমা ছড়িয়ে দিয়ে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।


দ্য গার্ডিয়ান জানায়, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১৯টি ক্লাস্টার ওয়ারহেড হামলায় নয়জন নিহত ও ডজনখানেক আহত হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো ইসরাইলের জন্য প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। কারণ আকাশে ছড়িয়ে পড়া উপ-বোমাগুলো ধ্বংস করতে ইন্টারসেপ্টরকে মূল ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের আগেই ধ্বংস করতে হয়।


ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ তাল ইনবার বলেন, “সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ক্লাস্টার বোমা আটকানো অনেক জটিল। আকাশে ছড়িয়ে পড়া ছোট বোমাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব।”


ইসরাইলের মাল্টি-টিয়ার প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে আয়রন ডোমও রয়েছে, বিভিন্ন উচ্চতা ও গতির লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও, ক্লাস্টার বোমা এটি পরীক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে ক্ষতি কমাতে হলে ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর বিস্ফোরণ বায়ুমণ্ডলের বাইরে ধ্বংস করতে হবে।


ক্লাস্টার বোমা মানবিক আইনের মধ্যে নিষিদ্ধ থাকলেও, ইরান ও ইসরাইল এই চুক্তির অংশ নয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সম্প্রতি ইরানের ক্লাস্টার হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।


ইসরাইলি কর্মকর্তারা বলছেন, আকাশসীমায় ছোট বোমা ঢুকিয়ে দিয়ে ইরান ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমানোর লক্ষ্যও রাখছে। যুদ্ধের ফলে সাধারণ মানুষ ও শহরের অবকাঠামোর ওপর চাপ পড়ছে।


গত কয়েক হামলায় তেল আবিবের রামাত গান ও মধ্য ইসরাইলের আদানিম এলাকায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের নাগরিকরা উদ্বিগ্ন এবং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন।


সম্পর্কিত খবর