আন্তর্জাতিক

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যে ১০ হাজার সেনা পাঠানোর তোড়জোড় ট্রাম্পের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতিরিক্ত ১০ হাজার স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি মূলত তেহরানের ওপর সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। সৈন্যদের কোথায় মোতায়েন করা হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।


ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য হামলা স্থগিতের মেয়াদ আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন। সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, স্থগিতাদেশ আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ভাবে এগোচ্ছে।


তিনি জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আটটি তেলবাহী জাহাজকে নির্বিঘ্ন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ইরানের পক্ষ থেকে এটি আলোচনার একটি নিদর্শন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পেশ করেছে, তবে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।


সাবেক মার্কিন বিশেষ দূত রবার্ট ম্যালি ট্রাম্পের পদক্ষেপকে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা স্থগিতের অর্থ এই নয় যে, ট্রাম্প স্থল অভিযান স্থগিত রাখবেন। ম্যালির মতে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপই ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।


ট্রাম্পের ঘোষণার প্রভাব তেলের বাজারেও পড়েছে। ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় এক ডলার কমেছে, এবং এশিয়ার শেয়ার বাজারে দরপতন দেখা গেছে।


ইরান-ইসরায়েল সংঘাতও চলছেই। তেহরানের সরকারি অবকাঠামো ও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে।


অর্থনৈতিক প্রভাবও স্পষ্ট। ট্রাম্পের যুদ্ধ শুরু হওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বেড়ে গড়ে চার ডলারে পৌঁছেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক জনপ্রিয়তা ২৯ শতাংশে নেমে এসেছে।


সাম্প্রতিক জরিপ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন বাড়ছে। রিপাবলিকানদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ ইরানে সামরিক পদক্ষেপ সমর্থন করছেন, কিন্তু সাধারণ ভোটারের মধ্যে সমর্থন মাত্র ৩৯ শতাংশ, এবং ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনায় সন্তুষ্টির হার মাত্র ৩৪ শতাংশ।


সম্পর্কিত খবর