আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে লাখ লাখ মানুষের নো কিংস বিক্ষোভে অংশগ্রহন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অভিবাসননীতি, ইরানে যুদ্ধের হুমকি এবং অন্যান্য নীতির প্রতিবাদে শনিবার দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ নামে পরিচিত।
এবার তৃতীয়বারের মতো ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়। দেশজুড়ে ৩,২০০টিরও বেশি স্থানে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আগের দুই বারের তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ধরা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে নিউইয়র্ক, ডালাস (টেক্সাস), ফিলাডেলফিয়া (পেনসিলভানিয়া) এবং ওয়াশিংটনে। তবে দুই-তৃতীয়াংশ মিছিল বড় শহরের বাইরে আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, প্রথম বারের তুলনায় ছোট শহরগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের রাজধানী সেন্ট পলের বাইরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়রা ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন পোস্টার উঁচিয়ে ধরেন। কিছু পোস্টারে নিহত রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেটির ছবি দেখা যায়, যাদেরকে গত বছর মিনিয়াপলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুলি করে হত্যা করে।
মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়াল্টজ বলেন, “ট্রাম্প ও তাঁর নীতির বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদই প্রমাণ করে, আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ভালো দিকগুলোর আসল শক্তি।” তিনি আরও বলেন, “আমরা কট্টরপন্থী, তবে মানবিকতা, শালীনতা, ন্যায়বিচার এবং গণতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যা কিছু সম্ভব, তা আমরা করব।”
ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও মিনেসোটায় বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমরা এই দেশকে স্বৈরাচার বা অলিগার্কদের হাতে পতিত হতে দেব না। জনগণের শাসনই এই দেশের মূল শক্তি।”
নিউইয়র্কে ম্যানহাটানে প্রায় লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে সমাবেশ আয়োজন করেন অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের আগে কোনো প্রেসিডেন্ট আমাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাকে এতটা হুমকিতে ফেলেননি।”
৫৪ বছর বয়সী হলি বেমিস বলেন, “আমরা পূর্বপুরুষদের মতোই স্বাধীনতার জন্য লড়ছি। রাজাদের শাসনের বিরুদ্ধে আমরা আবারও লড়াই করছি।”
ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে জনগণ গণতন্ত্র সমর্থনে স্লোগান দেন ও ট্রাম্পবিরোধী প্ল্যাকার্ড হাতে তুলে ধরেন। মেরিল্যান্ডে বয়স্করা হুইলচেয়ারে বসে ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন’, ‘গণতন্ত্র চাইলে আওয়াজ তুলুন’ এবং ‘ট্রাম্পকে বিদায় দিন’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ করেন।
ডালাসে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন। সেখানে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবসরপ্রাপ্ত টেরেসা গান বলেন, “স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ ও লোভের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প যা করছেন, তা সাধারণ মানুষ থেকে সম্পদ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য।”
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানায়, প্রায় এক হাজার ‘দাঙ্গাকারী’ ফেডারেল ভবন ঘিরে রাখার সময় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ জানিয়েছে, ফেডারেল কারাগারের আশপাশ থেকে সরে না যাওয়ার কারণে আরও বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিছু বিক্ষোভকারী বেড়ার ওপার থেকে ইট-পাটকেল ছুড়লে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে।







