আন্তর্জাতিক
ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের ইমপিচমেন্ট বিচার আগামী সপ্তাহে শুরু

ফিলিপাইনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে আনা ইমপিচমেন্ট মামলার বিচার আগামী সপ্তাহে দেশটির সিনেটে শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ২৪ সদস্যের সিনেটে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ অন্তত ১৬ জন সিনেটরের সমর্থন প্রয়োজন হবে। তবে উচ্চকক্ষে তার রাজনৈতিক মিত্রদের শক্ত অবস্থানের কারণে তিনি খালাস পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের কন্যা সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোসের বিরুদ্ধে কথিত হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফিলিপাইনের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর সিনেটে বিচার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দোষী সাব্যস্ত হলে সারা দুতার্তে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ হারাবেন এবং ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকারও হারাবেন।
সারা দুতার্তে ইতোমধ্যে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সেই রাজনৈতিক পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
সিনেট প্রেসিডেন্ট অ্যালান পিটার কায়েতানো জানিয়েছেন, আগামী সোমবার সিনেটররা ইমপিচমেন্ট আদালতের বিচারক হিসেবে শপথ নেবেন। মঙ্গলবার ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে সমন পাঠানো হবে এবং এরপর শুরু হবে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের আনুষ্ঠানিক শুনানি।
তিনি বলেন, “এই মামলার আইনি ভিত্তি থাকতে হবে। আমি সত্য এবং উপস্থাপিত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেব।”
ভাইস প্রেসিডেন্টের খালাস পেতে মাত্র ৯ জন সিনেটরের সমর্থনই যথেষ্ট। অন্যদিকে, তার বিরুদ্ধে আনা চারটি অভিযোগের যেকোনো একটি প্রমাণিত হলেই তিনি পদচ্যুত হবেন।
'আতেনেও পলিসি সেন্টার'-এর সিনিয়র ফেলো মাইকেল হেনরি ইউসিংকো বলেন, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে দুতার্তে পরিবারের সমর্থক প্রার্থীদের জয় সিনেটে সারা দুতার্তের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া টেলিভিশন ও অন্যান্য গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার হওয়ায় জনসমক্ষে নতুন তথ্য ও প্রমাণ উঠে আসতে পারে, যা সারা দুতার্তের জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ফিলিপাইনের সিনেট তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যালান পিটার কায়েতানোকে নির্বাচিত করেছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দুতার্তে পরিবারের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে পরিচিত।







