জাতীয়
চবি ছাত্র সংসদ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহর ওপর হামলা, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া বিষয়ক সম্পাদক এবং বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ৮টার দিকে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই।
প্রত্যক্ষদর্শী চবির মেরিন সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হামলার শিকার মাসুম বিল্লাহর ভাগিনা হাসিবুল বলেন, রাত ৮টার দিকে আমরা মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এম আলম ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়াই। কিছুক্ষণ পর আমি তেলের আপডেট জানতে একটু সামনে গেলে এ সময় ৮–১০ যুবক এসে মাসুম বিল্লাহর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মাসুম বিল্লাহকে মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আমি ছুটে গিয়ে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হই।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা ব্লেড বা ক্ষুর জাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার শরীরে আঘাত করে। এতে চোখ ও পিঠে গুরুতর জখম হয় এবং তিনি রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।
বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের জরুরি বিভাগের কর্মকর্তা সায়েদুর ইফাজ বলেন, আহত অবস্থায় আনার পর রোগীর চোখের ওপর বড় ক্ষতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পাওয়া গেছে। মাথায় মারাত্মক আঘাত থাকায় সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে রক্তাক্ত অবস্থায় তোলা দুটি ছবি পোস্ট করে মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, গত ৪ মার্চ কিছু বহিরাগত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে এক শিক্ষার্থীকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির দায়িত্ব তার ওপর দেয়। ওই ঘটনার জের ধরেই তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় মাসুম বিল্লাহর ভাগিনা হাসিবুল হাসান বাদী হয়ে হাটহাজারী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শগ্রামের বাসিন্দা মো. আকবর হোসেনের ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী।
প্রক্টর বলেন, আহত চাকসু প্রতিনিধিকে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিগত সময়ে অভিযুক্ত মোটরসাইকেল চালককে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, মাসুম বিল্লাহর ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। আমাদের অভিযান চলছে। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ মো. আরিফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুজ্জামানকে আহত করেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমঝোতার উদ্যোগ নেন চাকসুর পাঠাগার ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ। সমঝোতার অংশ হিসেবে আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা বাবদ ২০ হাজার টাকা প্রদান এবং সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা দপ্তরের অধীনে রাখার শর্তে আরিফুল ইসলামের বাবা মো. আকবর হোসেন একটি মুচলেকা দেন।






