আন্তর্জাতিক
ইরানের খারগ দ্বীপ, সেতু ও বিমানবন্দরে মার্কিন হামলা

মঙ্গলবার ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের তেল-নির্ভর খারগ দ্বীপে প্রায় ৫০টি হামলা চালানো হয়।
একই দিনে রেল ও সড়ক সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।
পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপ ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে।
একজন কর্মকর্তা এনবিসি নিউজকে জানান, অভিযানে দ্বীপের উত্তর অংশে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক বাঙ্কার, গুদামঘর, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
মঙ্গলবার ভোরে খারগ দ্বীপে হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি মন্তব্য করতে পারব না।’
তবে কিছুক্ষণ পরই তিনি তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে ইরানকে সতর্ক করেন, যদি মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দেওয়া হয়, তাহলে ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’।
তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাতেই একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো পুনরুদ্ধার করা যাবে না।
আমি চাই না এটা ঘটুক, কিন্তু সম্ভবত ঘটবে। তবে এখন আমরা সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক শাসন পরিবর্তনের পর্যায়ে আছি—যেখানে ভিন্ন, আরও বুদ্ধিমান এবং কম উগ্র চিন্তার মানুষরা প্রাধান্য পেতে পারে। তাই হয়তো কিছু অভূতপূর্ব চমৎকার ঘটনা ঘটতেও পারে।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আজ রাতেই আমরা জানতে পারব, এটি বিশ্বের দীর্ঘ ও জটিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ৪৭ বছরের জুলুম, দুর্নীতি ও মৃত্যুর অবসান ঘটবে। মহান ইরানি জনগণের প্রতি ঈশ্বরের আশীর্বাদ রইল।’
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, খারগ দ্বীপে হামলা কোনো নতুন কৌশলের ইঙ্গিত দেয় না।
বুদাপেস্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফসের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের সঙ্গে কথা বলে আমরা খারগ দ্বীপে কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলাম এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।’
জেডি ভ্যান্স আরও বলেন, ‘আমি মনে করি না খারগ দ্বীপের এই হামলা কোনো কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। প্রেসিডেন্ট এখনও বলছেন, সময়সীমা রাত ৮টা।’
ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের অন্যান্য এলাকাতেও হামলা আরও জোরদার হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেল ও সড়ক সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, কাশানে একটি রেলসেতুতে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।
এর জবাবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা আর সংযম দেখাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করবে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা এমন কিছু করব, যার ফলে আমেরিকা ও তার মিত্ররা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের তেল ও গ্যাস থেকে বঞ্চিত হবে।’
তারা সতর্ক করে আরও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করে, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া অঞ্চল ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হবে।
একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, ‘আমরা কখনও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সূচনা করিনি এবং করবও না; তবে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নিকৃষ্ট হামলার জবাব দিতে আমরা এক মুহূর্তও দেরি করব না।’
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট







