আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য ইরানের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে, যোগ দিচ্ছেন ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করতে ইরানের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানে পৌঁছেছে। তবে তেহরান জানিয়েছে, আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার শর্ত মানতে হবে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সহযোগিতা থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা হবে। তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদ আলোচনায় তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর একটি শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ট্রাম্প তার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে পাকিস্তানে পাঠিয়েছেন। ভ্যান্স সেখানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে ভ্যান্স ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান যদি আন্তরিকভাবে আলোচনা করতে চায়, আমরা প্রস্তুত। কিন্তু যদি তারা কৌশল করে আমাদের বিভ্রান্ত করতে চায়, তাহলে আমাদের পক্ষ তেমন ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হবে না।’ এই বৈঠকে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফও অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ইরানি প্রতিনিধি দলের প্রধান ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
পাকিস্তানের রাজধানীতে পৌঁছানোর পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন গালিবফের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ‘আমাদের উদ্দেশ্য ভালো, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি না।’ ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের।’
তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সম্পদ মুক্ত করা—এই দুই শর্ত পূরণ হলেই কেবল আলোচনা শুরু হবে।
এর মধ্যে ইসরাইল জানিয়েছে, তারা আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবানন সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে, তবে হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি নিয়ে কথা বলবে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর, হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইসরাইল লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও স্থল অভিযান চালায়। ইসরাইল আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহের সংঘাতে ১,৯৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। শুধু গত বুধবারই—যা ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন ইসরাইলের হামলায় ৩৫০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, ইসলামাবাদের এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া কঠিন কাজ হবে।
তিনি বলেন, ‘একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এখন সামনে আরও কঠিন একটি পর্যায় রয়েছে। একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জন এবং আলোচনার মাধ্যমে জটিল বিষয়গুলোর সমাধান করা। ইংরেজিতে এই পর্যায়টিকে বলা হয় 'মেক অর ব্রেক' মুহূর্ত।’
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালি পুনরায় চালু করা আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পথটি ‘খুব শিগগিরই’ খুলে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘ওদের সাথে বা ওদের ছাড়াই আমরা হরমুজ প্রণালি খুলে দিবো বলে। আমার মনে হয় এটা বেশ দ্রুতই হয়ে যাবে, আর যদি তা না-ও হয়, আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব। আমরা খুব শিগগিরই এটি খুলে দিতে পারব।’
একটি ভালো চুক্তি কেমন হবে—এ বিষয়ে জানাতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’







