সারাদেশ

নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিষু উদযাপন

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

নদীতে ফুল নিবেদনের মধ্য দিয়ে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিষু উদযাপন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঝিরি ও খালের স্বচ্ছ জলে ভাসছে হাজারো রঙের ফুল। স্নিগ্ধতা আর নতুন দিনের প্রত্যাশা নিয়ে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় শুরু হয়েছে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক উৎসব—বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু ও সাংলান।


রোববার উৎসবের প্রথম দিনে রাজস্থলী উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা মেতে ওঠে তাদের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘ফুল বিষু’র আনন্দে।


ভোরে সূর্যোদয়ের আগেই তঞ্চঙ্গ্যা কিশোর-কিশোরীরা বাগান থেকে নানা ধরনের ফুল সংগ্রহ করে কাপ্তাই খাল, হ্নাড়া খালসহ পাহাড়ের বিভিন্ন ছোট-বড় ঝিরিতে ফুল দিয়ে পূজা নিবেদন করে।


তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের রীতি অনুযায়ী, পুরাতন বছরের সব গ্লানি ও দুঃখ দূর করতেই এই ফুল নিবেদনের আয়োজন করা হয়। একইসঙ্গে তারা এই ফুলের মাধ্যমে গঙ্গা দেবীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করে এবং প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়।


উৎসবকে ঘিরে পাহাড়ি গ্রামগুলোতে এখন আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। পাড়ায় পাড়ায় চলছে ঘরদোর সাজানোর কাজ এবং অতিথি আপ্যায়নের প্রস্তুতি। তরুণ-তরুণীরা অংশ নেবে তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলাখেলা’য়। এছাড়া ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের পিঠা, পায়েস এবং বিভিন্ন সবজির মিশ্রণে প্রস্তুত ‘পাচন’।


স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠদের মতে, এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়; বরং তাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফুল বিষুর পরদিন পালিত হবে ‘মূল বিষু’, যেখানে ঘরে ঘরে থাকবে ঐতিহ্যবাহী খাবারের আয়োজন।


এছাড়াও নববর্ষ উপলক্ষে সুখ, শান্তি ও বিশ্বকল্যাণ কামনায় বিহারে অনুষ্ঠিত হবে ধর্মসভা ও বিশেষ প্রার্থনা।


তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের পাশাপাশি এখানে বসবাসরত চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা ও খিয়াংসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর জনপদও বর্ণিল সাজে সজ্জিত হয়ে উঠেছে।


সম্পর্কিত খবর