ক্যাম্পাস
চবিতে রুমমেটকে হয়রানির অভিযোগ দুই নারী শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হলের এক শিক্ষার্থী মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই নির্যাতনে তিনি শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন বলেও জানিয়েছেন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী লিখেন, “মানসিকভাবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছি। সহ্য করতে করতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। আমি আর নিতে পারছি না।”
অভিযুক্ত ২ জন শিক্ষার্থী অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের সানজিদা আক্তার শ্রাবনী ও চারুকলা বিভাগের ২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আনা কারেনিনা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, হলের ২০৭ নম্বর কক্ষে তিনটি সিট থাকলেও একটি সিট দীর্ঘদিন খালি রাখা হয়। ওই কক্ষে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার শ্রাবনী বহিরাগতদের নিয়ে আসতেন এবং কক্ষে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করতেন। এছাড়া চারুকলা বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী, আনা কারেনিনা, অধিকাংশ সময় ওই কক্ষে অবস্থান করে তাকে মানসিকভাবে হয়রানি করতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী বলেন, “আমি দুইবার হল প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো পোস্ট দেওয়ার পর সেটি মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয়। হল টিউটর থানায় মামলা করার ভয় দেখান। এমনকি আমার ফোন চেক করে জোর করে পোস্ট ডিলিট করানো হয়েছে।”
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে হল প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তকে আলাদা কক্ষে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা চলছে।
হলের আবাসিক শিক্ষক ফাতেমা আক্তার হীরা মনি বলেন, “আজকে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীটি ৫ তারিখে আমাকে জানিয়েছিল, তখন তাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়। পরে সে আর যোগাযোগ করেনি। জোর করে কিছু করানো হয়নি, কেবল সমাধান হয়ে যাওয়ায় পোস্টটি মুছে দিতে বলা হয়েছিল।”
খালি সিট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মেধাক্রম অনুযায়ী সিট দেওয়া হয়। পরবর্তী মেধাক্রম না আসা পর্যন্ত খালি সিট বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।”
হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন মিজি বলেন, “বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি। এরপরও আমরা বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখব।”
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার শ্রাবনী এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি।”







