ক্যাম্পাস
ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিককে হেনস্তার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)–এর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ঢাবির শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত আলাউদ্দিন ২০০৬-০৭ সেশনের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী। ৫ আগস্টের পরে তিনি বিশেষ বিবেচনায় ঢাবিতে ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন মুসাদ্দিক। সংবাদ সম্মেলন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মুসাদ্দিক বলেন, আজ বেলা ১টা ২২ এর দিকে কলাভবনের পিছনের গেট দিয়ে আমরা দুজন বন্ধু ক্লাসে যাচ্ছিলাম। এ সময় ২০০৬-০৭ সেশনের ছাত্রদল নেতা আলাউদ্দীন আমার পথরোধ করে দাঁড়ায়। তার সাথে আরও কয়েকজন নেতাকর্মী ছিল। তারা শুরুতেই আমাকে চার্জ করতে থাকে যে, আমি কেন তার বিরুদ্ধে পোস্ট দিয়েছি। তাকে তো সিট দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, আমি তার বিরুদ্ধে কেন পোস্ট দিলাম।
তিনি আরও বলেন, তখন আমি খুব সুন্দরভাবে বললাম যে, দেখুন আপনার সাথে আমার এইটা নিয়ে কোনো ডিবেট নেই। আপনাকে যে আমি পোস্ট দিয়েছি, সেই পোস্টে আপনাকে নিয়ে কোনো অপরাধমূলক ভাষায় কথা বলিনি, যা আপনার সাথে যায় না। বরং আপনাকে ভদ্রলোক বলেই সম্বোধন করেছি। আপনাকে বিশেষ বিবেচনায় সিট দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এটি নিয়ম-নীতির বাইরে, নীতিমালাতে নেই। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার জিজ্ঞাসা করেছি যে তাকে কিসের ভিত্তিতে সিট দেওয়া হলো? তারা জানিয়েছে যে এটি নিয়ম-নীতির মধ্যে নয়, বরং বিশেষ বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে।
মুসাদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, “এ সময় সে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। প্রথমে বলে যে তোর দাঁত থাকবে না। এরপর বেশ কিছু গালিগালাজ করে। অনেকক্ষণ গালিগালাজের এক পর্যায়ে সে আমাকে মারতে উদ্যত হয়। আশেপাশে যারা ছিল তারা তাকে সরিয়ে নিতে চায়, কিন্তু সে বারবার তেড়ে এসে আমাকে মারতে চায়। এভাবে দুই-তিনবার করার পর তাকে তার সঙ্গীরা সেখান থেকে নিয়ে যায়। সে যাওয়ার সময় একের পর এক হুমকি দিচ্ছিল। তার হুমকি-ধমকিতে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত।”
ডাকসুর এই সম্পাদক বলেন, “আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। যেকোনো মুহূর্তে তারা যেকোনো কিছু ঘটিয়ে ফেলতে পারে। আমি প্রক্টরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর বিচারর চাই। অবিলম্বে এই অবৈধ সিটধারীদের সিট বাতিল এবং যারা নিয়ম লঙ্ঘন করে সিট দখল করে আছে, তাদের বের করে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সিট প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। যদি প্রশাসন আলাউদ্দীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে পরবর্তীতে আমার বা আমার কোনো সহযোদ্ধার ০০ কোনো নৃশংসতা ঘটে, তবে এর দায়ভার সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বহন করতে হবে।”
জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আলাউদ্দিন বলেন, “আমি পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে আসছিলাম। তখন কলাভবনের গেটে মুসাদ্দিকের সাথে আমার কথা হয়। আমি তাকে জিজ্ঞেস করি তোরা আমার সিট বাতিলের জন্য উঠেপড়ে লেগেছিস কেন? আমি তাকে তুই করে সম্বোধন করেছি। পরে শুনি সে দাবি করছে আমি তাকে গালিগালাজ করেছি।”
তিনি বলেন, আমি পরিক্ষা দিয়ে বের হওয়ায় আমার হাতে তখন একটা স্কেল ছিলো। সে দাবি করছে আমি তার গায়ে হাত তুলেছি। অথচ এমন কিছুই হয়নি।
আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমার বাসা ধানমন্ডি। প্রায় সময় সকালে আমার ক্লাস থাকে। বয়স হয়ে গেছে। সকালে উঠতে পারি না। এজন্য আমি ক্লাস করার জন্য হলে সিট নিয়েছি। আপনি খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমি ডিপার্ট্মেন্টের ফাস্ট বয় এবং সিআর। এ বয়সেও শতভাগ অ্যাটেনডেন্স আমার।’
ছাত্রদলের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এককালে ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী ছিলাম। এজন্য পড়াশোনা কন্টিনিউ করতে পারিনি। এখন ছাত্র রাজনীতি করার বয়স নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখবো খানিকটা সময় লাগবে।’







