জাতীয়
শাহবাগ থানায় ঢাবি সাংবাদিক সমিতির ১০ সাংবাদিক ও দুই ডাকসু নেতার উপর ছাত্রদলের হামলা

রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতর সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ দশজন সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
শাহবাগ থানার ভেতর ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলের সংবাদ কভার করতে বেশ কয়েকজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক যান। এসময় থানায় ওসির রুমের বাহিরে স্লোগান দিতে দেখা যায় কয়েকজন ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে। তাদের স্লোগান ধরার ভিডিও করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। সেসময় তাদের ভিডিও করতে বাঁধা দেয় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। তারা সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর বাগবিতণ্ডায় জড়ান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা করেন তারা।
এসময় ছাত্রদলের হামলার শিকার হন ঢাকা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি কালের কণ্ঠের ঢাবি প্রতিনিধি মানজুর হোছাঈন মাহি, সাধারণ সম্পাদক ও আগামীর সময়ের সাংবাদিক লিটন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের এইচ এম খালিদ হাসান, ডেইলি অবজার্ভারের নাইমুর রহমান ইমন, ডেইলি স্টারের মাহাথীর মোহাম্মদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের মো. ছাব্বিরুল ইসলাম, নয়া দিগন্তের মো: হারুন ইসলাম, রাইজিংবিডি ডট কমের মো: সৌরভ ইসলাম, মানবজমিনের মোঃ আসাদুজ্জামান খান, ঢাকা ট্রিবিউনের মোঃ সামশুদৌজা নবাব, প্রাইম বাংলাদেশের ইফতেখার সোহান সিফাত, প্রতিদিনের বাংলাদেশের মাহরিব বিন মহসিন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদিক সমিতির সভাপতি মনজুর হোসেন মাহী জানান, কয়েকজন সাংবাদিক ভিডিও করতে গেলে তাদের প্রধমে বাঁধা দেন ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে আমি গিয়ে তাদের সাথে কথা বলি আর নিজের পরিচয় দিলে ছাত্রদলের সাবেক সহ স্কুল বিষয়ক সম্পাদক সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ আমাকে 'সংবাদিক সমিতির সভাপতি হয়েছিস তো কি বাল হয়েছে' বলে তেড়ে আসে। এরপর কয়েক দফায় বাগবিতণ্ডা চলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে। এক পর্যায়ে তারা সবাই মিলে আমাদের চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।
হামলাকারীদের মধ্যে ছিলেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও শেখ মুজিবুর রহমান হলের ২০১১–১২ শিক্ষাবর্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সাবেক সহ স্কুল বিষয়ক সম্পাদক সফি ওবায়দুর রহমান সামিথ, মহসিন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারী ইফাত ও সদস্য সচিব মনসুর রাফি, শহীদুল্লাহ হলের সদস্য সচিব জুনায়েদ আবরার, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদল প্যানেলের ভিপি প্রার্থী সাজ্জাদ খান ও সাকিব বিশ্বাস , সূর্যসেন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম আল নাসের মিশুক, বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সুলায়মান হোসাইন রবি, শেখ মুজিবুর রহমান হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিতুর রহমান পিয়াল এবং জিয়াউর রহমান হলের জহিন ফেরদাউস জামিসহ আরও অনেকে।
হামলায় ঢাকা মেইলের ঢাবি প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখে এবং মুখে গুরুতর আহত হলে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
ভুক্তভুগী সাংবাদিকদের একজন সৌরভ ইসলাম বলেন, শফিকুর রহমান নামের এক ছাত্রদল কর্মী অপমানজনকভাবে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার আমরা এর প্রতিবাদ করি। এরপর ছাত্রদলের কিছু জুনিয়র নেতাকর্মী আমাকে লক্ষ্য করে অভিযোগ তোলে যে, আমি নাকি সাংবাদিকদের তাদের উপরে হামলার নির্দেশ দিয়েছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওরা আমাকে জোর করে টেনে ভিড়ের মধ্যে নিয়ে যায় এবং মারধর করে। পরে আমাদের অন্যান্য সাংবাদিক এলে তাদের উপরও হামলা করা হয়। আমাকে টার্গেট করা হচ্ছিল বুঝতে পেরে আমি সেখান থেকে সরে যাই।"
ঘটনাস্থলে অন্তত ১৫০ জন ছাত্রদলের ঢাবি ছাড়াও শাহবাগ থানা ছাত্রদল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলসহ অন্যান্য ইউনিটের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারাও ছিলেন। সিনিয়রদের অনেকেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছিলেন, তবে শফিক ওয়াহিদুজ্জামানসহ কয়েকজনের আচরণ ছিল উগ্র।”
এ ঘটনার কিছুক্ষণ পরই থানায় আসায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজ সেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের,সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের উপর হামলা করে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
এসময় শাহবাগ থানার পুলিশ নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।







