সারাদেশ
দিনাজপুরে ২০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়া চিন্তামন ঘোড়া’ মেলা শুরু

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় শুরু হয়েছে ২০৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘বুড়া চিন্তামন ঘোড়া’ মেলা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চিন্তামন এলাকায় মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মেদ হাছান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ মো. খুরশিদ আলম মতি। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনের পর বিকেল থেকেই মেলায় আগত ঘোড়ার ক্রয়-বিক্রয় শুরু হয়েছে। আনুষ্ঠানিক লেনদেনের জন্য ‘ছাপা’ (রশিদ) ইস্যু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেচাকেনা জমে উঠেছে, যদিও অনেক ক্রেতা-বিক্রেতা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ফুলবাড়ী উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের চিন্তামন গ্রামে মেলাবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠজুড়ে বসেছে এই জমজমাট গ্রামীণ মেলা। বিনোদনের জন্য রয়েছে নাগরদোলা, চরকি, পুতুল নাচ, যাদু প্রদর্শনী, ঘোড়া দৌড় প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন গ্রামীণ খাবারের দোকান। সব বয়সী মানুষের পাশাপাশি নারী দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
প্রতি বছর বৈশাখ মাসের ১৩ তারিখ থেকে শুরু হয়ে ১৫ দিনব্যাপী চলে এই মেলা। গরু, মহিষ বা ছাগলের তুলনায় এখানে ঘোড়ার বেচাকেনা বেশি হওয়ায় এটি ‘বুড়া চিন্তামন ঘোড়া’ মেলা নামে দেশজুড়ে পরিচিত। দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, জয়পুরহাট, বগুড়া ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫০০টির বেশি ঘোড়া নিয়ে অংশ নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
মেলায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী বিরল উপজেলার হাসান আলী একটি ঘোড়ার দাম চেয়েছেন ৪ লাখ টাকা, যদিও ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দিয়েছেন। অপরদিকে বিরামপুর উপজেলার বিনাইল গ্রামের প্রবীণ ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী প্রায় ৬০ বছর ধরে এই মেলায় অংশ নিচ্ছেন। তিনি এবার একটি বাচ্চা মাদি ঘোড়া এনেছেন, যার দাম চেয়েছেন ১৫ হাজার টাকা।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল মতিন ৫টি ঘোড়া এনেছেন। এর মধ্যে একটি বাচ্চাসহ মাদি ঘোড়ার দাম চাওয়া হচ্ছে ৭ লাখ ১ টাকা। তবে এখনো প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মেলার ইজারাদার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে মেলা পরিচালিত হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবক দলও কাজ করছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খুরশিদ আলম মতি বলেন, এই মেলা বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ঘোড়ার পাশাপাশি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া বিক্রি হয়। এছাড়া কাঠের তৈরি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ও প্রসাধনী দ্রব্যেরও ব্যাপক বেচাকেনা হয়। এটি স্থানীয় মানুষের জন্য একটি উৎসবমুখর আয়োজন।
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিদর্শক মো. আব্দুল লতিফ শাহ বলেন, মেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে এবং ১৫ দিনব্যাপী মেলায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহম্মেদ হাছান জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মেলাটি ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং এর সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি অব্যাহত থাকবে।







