সারাদেশ
গোপালগঞ্জে ‘ব্রি-১০৮’ ধানে বাম্পার ফলন, ধান উৎপাদনে আশাবাদী কৃষি বিভাগ

চলতি বোরো মৌসুমে গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত ‘ব্রি-১০৮’ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। উচ্চ উৎপাদন, উন্নত মানের চাল এবং বাজারে ভালো দামের কারণে কৃষকদের মধ্যে এ জাতের ধান চাষে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ব্রি-১০৮ ধান সাধারণত ১৪৯ থেকে ১৫১ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। সঠিক পরিচর্যায় হেক্টরপ্রতি ৮.৭ টনের বেশি ফলন পাওয়া সম্ভব, যা অনুকূল পরিবেশে ৯.৫ থেকে ১০ টন পর্যন্তও হতে পারে। এছাড়া প্রচলিত অনেক জাতের তুলনায় এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিনা খাতুন জানান, ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রি উদ্ভাবিত বিভিন্ন উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাত নিয়ে গোপালগঞ্জ, নড়াইল ও বাগেরহাট জেলায় কাজ চলছে। চলতি মৌসুমে তিন জেলায় মোট ৬৩ হেক্টর জমিতে ব্রি-১০৮ ধানের আবাদ হয়েছে।
মাঠ পর্যায়ে এর ইতিবাচক ফল মিলেছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বোড়াশী গ্রামের কৃষক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, আগে স্থানীয় জাতের ধানে বিঘাপ্রতি ৩০-৩৫ মণ ফলন পেতেন, যা উৎপাদনে সময় লাগত প্রায় ১৬০ দিন। কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো ব্রি-১০৮ চাষ করে মাত্র ১৪৯ দিনে বিঘাপ্রতি ৪৫ মণ ফলন পেয়েছেন। এতে উৎপাদন খরচও কমেছে, ফলে লাভের পরিমাণ বেড়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ব্রি-১০৮ ধানের গাছের গড় উচ্চতা প্রায় ১০২ সেন্টিমিটার, পাতা খাড়া ও গাঢ় সবুজ। গাছ হেলে পড়া প্রতিরোধী হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতেও ক্ষতির আশঙ্কা কম। প্রতি গোছায় গড়ে ১৬-১৭টি কুশি থাকায় অধিক ফলনের ভিত্তি তৈরি হয়।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার বলেন, “ব্রি-১০৮ শুধু ফলনেই এগিয়ে নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। এর চালে প্রায় ৮.৮ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা অনেক প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি। ফলে এটি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
তিনি আরও জানান, মাঠ পর্যায়ে এ জাতের সফলতা দেখে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। পর্যাপ্ত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আগামী মৌসুমে ব্রি-১০৮ ধানের চাষাবাদ আরও সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
কৃষি বিভাগ মনে করছে, ব্রি-১০৮ ধানের আবাদ সম্প্রসারণ হলে দেশের মোট ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।







