আন্তর্জাতিক

ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আমিরাতের

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আমিরাতের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক’ এবং ‘ওপেক প্লাস’ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আগামী ১ মে থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা জোট এবং অঘোষিতভাবে নেতৃত্বদানকারী সৌদি আরবের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই ধরনের সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে, যখন ইরান-সংক্রান্ত ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি কার্যক্রম ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম-এর বরাতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত দেশটির দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ জোরদার করার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎপাদক হিসেবে বৈশ্বিক বাজারে ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়।


খবরে আরও বলা হয়, বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


এদিকে কিছু বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, যদি আমিরাত সত্যিই ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক তেল বাজারে সরবরাহ নীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। কোটা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ পেলে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদে দামের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।


ঘোষণার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক তেল বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম উচ্চমাত্রায় থাকতে পারে। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০–৯০ ডলারের মধ্যে নেমে আসতে পারে বলেও অনুমান করা হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত ওপেক বিশ্ব তেল বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত ও ভেনেজুয়েলা এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে অন্যতম। পরবর্তীতে একাধিক দেশ এতে যুক্ত হলেও কিছু দেশ সময়ের সঙ্গে জোট ত্যাগ করেছে।


এছাড়া ২০১৬ সালে ওপেকের সঙ্গে রাশিয়া, কাজাখস্তানসহ কয়েকটি অ-ওপেক দেশ যুক্ত হয়ে ‘ওপেক প্লাস’ গঠন করে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় তাদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। বর্তমানে এই জোট বিশ্ব তেল উৎপাদনের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে বলে ধারণা করা হয়।


সম্পর্কিত খবর