জাতীয়

শিল্পকারখানায় অমানবিক পরিবেশ, মজুরি ও অধিকারের অবমূল্যায়ন

প্রাইম বাংলাদেশ ডেস্ক

শেয়ারঃ

শিল্পকারখানায় অমানবিক পরিবেশ, মজুরি ও অধিকারের অবমূল্যায়ন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজধানীতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে গার্মেন্টস শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, দেশের শিল্পকারখানাগুলোতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ এখনো কঠিন ও অমানবিক রয়ে গেছে। একইসঙ্গে শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন না থাকায় তারা চরম অর্থনৈতিক সংকটে জীবনযাপন করছেন।


আজ শুক্রবার (১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ইউনিয়নের ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা তুলে ধরেন নেতারা।


বক্তারা বলেন, অধিকাংশ কারখানায় বাধ্যতামূলক ওভারটাইম এখন একটি স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সম্মতি ছাড়াই অতিরিক্ত সময় কাজ করানো হয়। অসুস্থতা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে ছুটি নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে, এমনকি ছুটি নিলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি করা হয়।


তারা আরও বলেন, শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক চাপের মধ্যে কাজ করছেন। এই পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি কাঠামোগত সমস্যা।


মানববন্ধনে শ্রমিক নেতারা বর্তমান মজুরি কাঠামোর অসামঞ্জস্যতার দিকও তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে একটি শ্রমিক পরিবারের মাসিক ব্যয় বাসাভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার বেশি হয়ে যায়। অথচ বহু শ্রমিকের মাসিক বেতন এই পরিমাণের অনেক নিচে, যেখানে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারিত রয়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা।


এই আয় দিয়ে সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তারা। বাজারে নিত্যপণ্যের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।


মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতা রাব্বি হাসান, লাভলু হোসেন, রাহিদ উদ্দিন ও কাজী মারুফ আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


বক্তারা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কর্মপরিবেশ উন্নয়ন এবং শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সম্পর্কিত খবর