আন্তর্জাতিক
ইউরোপ-এশিয়ায় মে দিবসের সমাবেশে পুলিশের সংঘর্ষ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা

বিশ্বজুড়ে মে দিবসের কর্মসূচি এবার প্রচলিত শ্রমিক অধিকার দাবির গণ্ডি ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ নেয়। শুক্রবার ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে আয়োজিত সমাবেশে মজুরি বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী অবস্থান, ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রধান দাবি ছিল মজুরি বৃদ্ধি ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তবে সমাবেশে ফিলিস্তিনি পতাকা ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগানের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে, যেখানে টিয়ার গ্যাস ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়।
স্পেনের মাদ্রিদে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা “পুঁজিবাদের যুদ্ধের খেসারত দিতে হবে” লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।
জার্মানির মিউনিখে উগ্র বামপন্থি গোষ্ঠীর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়, যেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করা হয়। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ঐতিহাসিক তাকসিম স্কয়ারে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটে।
এশিয়ার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবি জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানও জানানো হয়। সেখানে ট্রাম্প, নেতানিয়াহু এবং প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রকে প্রতীকীভাবে ‘তিন মাথাওয়ালা দানব’ হিসেবে চিত্রিত করে কুশপুত্তলিকা প্রদর্শন করা হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে হাজার হাজার শ্রমিকের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে কোরিয়া কনফেডারেশন অব ট্রেড ইউনিয়নসের চেয়ারম্যান ইয়াং কিয়ং-সু বলেন, “মার্কিন প্রভাব ও আগ্রাসনের শিকার ইরান ও ফিলিস্তিনের শ্রমিক ও জনগণের সঙ্গে আমরা সংহতি জানাই।”
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক নীল গার্ডিনার এই ধরনের বিক্ষোভকে ‘রাজনৈতিক রূপান্তরিত মে দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, অনেক সমাবেশ এখন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের পরিবর্তে আদর্শিক ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মে দিবসের কর্মসূচি শ্রমিক আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী দাবির পাশাপাশি বৈশ্বিক রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্য সংকটকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে, যা আন্দোলনের চরিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।







