আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ অবসান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ব রাজধানী ও আন্তর্জাতিক বাজারগুলো তেহরানের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দেওয়ার পর এশিয়ার শেয়ারবাজারে উত্থান এবং তেলের দামে পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে ইরানও জানিয়েছে, তারা মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে নিজেদের সর্বশেষ অবস্থান জানাবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার কোনো সমঝোতা হলে তা খবনধহড়হ-এর উত্তেজনাও কমাতে পারে। সেখানে ইসরাইলের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে, কারণ দক্ষিণ বৈরুতে এক হামলায় ঐবুনড়ষষধয-এর এক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শুরু করা এই যুদ্ধে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলার মাধ্যমে জবাব দিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই প্রণালী উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথ এবং একটি কৌশলগত বাণিজ্য রুট।
ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে নৌ অভিযান শুরু করেছিলেন। তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি তা স্থগিত করেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এবং উপসাগরীয় আরব মিত্রদের সমর্থনে এই আলোচনা চলছিল।
ট্রাম্প বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে এবং চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’ একই সঙ্গে তিনি আগের মতোই হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবি না মানলে আবারও বোমা হামলা শুরু হতে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো ‘পর্যালোচনায়’ রয়েছে এবং ‘চূড়ান্ত মতামত নির্ধারণের পর’ তা পাকিস্তানকে জানানো হবে।
মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এনবিসি নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলার পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় ট্রাম্প অবস্থান পরিবর্তন করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস দুই কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটন যুদ্ধ অবসান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার কাঠামো নির্ধারণে এক পাতার সমঝোতা স্মারকে সম্মত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার তেলের দাম আরও দুই শতাংশ কমেছে। এর আগে টানা দুই দিনে প্রায় ১০ শতাংশ দাম কমে যায়। একই সঙ্গে টোকিওর নিক্কেই সূচকের নেতৃত্বে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। আলোচনায় অগ্রগতির আশাবাদ থেকেই বাজারে এই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে।
যদিও জ্বালানির দাম এখনো যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় বেশি, তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট উভয়ই এখন ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্ববাজার বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন হরমুজ প্রণালী নিয়ে। শান্তিকালে বিশ্বের মোট তেল ও এলএনজি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার মালবাহী জাহাজ ‘এইচএমএম নামু’ ইরানের অবরোধ উপেক্ষা করে প্রণালী অতিক্রমের সময় আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
পরে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ওই জাহাজটির দিকে ‘গুলি ছুড়েছে’ এবং তিনি দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে সিউলে ইরানি দূতাবাস এ অভিযোগ ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করেছে।
তেহরানের এক বাসিন্দা প্যারিসভিত্তিক এএফপি সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান ইরানি সরকারের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির সম্ভাবনা ‘ভয়াবহ’।
৪৩ বছর বয়সী অনুবাদক আজাদেহ বলেন, ‘আমরা এত কষ্ট আর দুর্ভোগ সহ্য করেছি, অথচ মানুষের জন্য কোনো অর্জনই নেই। আমি সত্যি শুধু চাই এই শাসনের অবসান হোক।’
লেবানন ফ্রন্টে বুধবার প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে হামলা চালায় ইসরাইল। ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, এতে সংগঠনটির অভিজাত রাদওয়ান বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে পৃথক হামলায় আরও অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে আগের দিন একটি ‘বিস্ফোরক ড্রোন হামলায়’ তাদের চার সেনা আহত হয়েছেন, যাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।







