জাতীয়
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয় বিষয়ক সেমিনার
রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলো বখতিয়ার খলজির বঙ্গ বিজয় বিষয়ক সেমিনার।
মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকার বাংলামোটরে অবস্থিত বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ভবনে ৩০১ নং কক্ষে 'ঢাকা ফোরাম অব থ্যট এন্ড সিভিলাইজেশন' (DFTC) “বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়; নতুন যুগের সূচনা” শিরোনামে বিশেষ সেমিনার আয়জন করে।। অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরা।
সেমিনারের অন্যতম আলোচক অনুবাদক ও গবেষক কাজী সালমা বিনতে সলিম তার বক্তব্যে বাংলার ইতিহাস, মধ্যযুগীয় সুলতানি আমলের ঐতিহ্য, সমাজ, সংস্কৃতি, মুসলমানদের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপক মিজানুর রহমান এবং লেখক, অনুবাদক ও ত্রৈমাসিক মিহওয়ার-এর সহ-সম্পাদক মিফতাহুর রহমান। সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন শাকিক আব্দুল্লাহ এবং সভাপতিত্ব করেন DFTC-এর সভাপতি শফিকুল ইসলাম।
আলোচকবৃন্দ বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়কে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁদের মতে, এই বিজয় কেবল কোনো সেনাপতির আগমন বা দুই রাজার মধ্যকার যুদ্ধ ছিল না; বরং সেন শাসনের জুলুম-শোষণে অতিষ্ঠ এই জনপদের মানুষের মুক্তির এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত ছিল। বখতিয়ার খলজির আগমনের মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অধিকার ফিরে পায় এবং সব ধরনের বিভেদর রেখা ভুলে মানবিক মর্যাদা নিয়ে বাঁচার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।
আলোচকরা আরও বলেন, এই বিজয়ের মধ্যে দিয়ে সমগ্র বাংলা অঞ্চলে নতুন এক সভ্যতার সূচনা হয়, যে সভ্যতা তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অর্থনীতি, রাজনীতি, জ্ঞানচর্চা ও সামাজিক জীবনের নানা ক্ষেত্রে আদালত, আখলাক, মারহামাত ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে দীর্ঘ প্রায় ৫৫০ বছর স্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে।
সম্মানিত আলোচকবৃন্দের আলোচনা ও সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।







