ক্যাম্পাস

নিজের বন্ধুকে মেরে রক্তাক্ত করলো কুবি শিক্ষার্থী

কুবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

নিজের বন্ধুকে মেরে রক্তাক্ত করলো কুবি শিক্ষার্থী- খবরের থাম্বনেইল ফটো

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে লোহার শিকল দিয়ে হামলা করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে একই বিভাগের ও একই ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহপরান হোসাইনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


অভিযুক্ত শাহপরান হোসাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।


অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসংলগ্ন মামা হোটেলের সামনে পিছন থেকে লোহার শিকল দিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালানো হয়। এতে ভুক্তভোগীর মাথা, চোখ, হাত ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে এবং রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরে তিনি রাস্তায় পড়ে যান। হামলার পরপরই অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।


অভিযোগপত্র অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তির পর ভুক্তভোগীর চোখের ওপর ৫টি এবং নিচে ৩টি সেলাই দেওয়া হয়। মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত থাকায় সিটি স্ক্যান করানো হয়। এছাড়া হাতে ও পিঠে ব্যান্ডেজ করা হয়।


ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আকরাম চৌধুরী বলেন, “আমি সকাল সাড়ে দশটার দিকে ক্লাসের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম। মামা হোটেলের সামনে পৌঁছালে শাহপরান পেছন থেকে লোহার শিকল দিয়ে আমার ওপর হামলা করে। প্রথমে সে আমার চোখে ঘুষি মারে, আমি পড়ে যাই। এরপর সে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। পরে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়।”


হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি জানি না সে কেন আমাকে আক্রমণ করেছে।”


অভিযুক্ত শাহপরান হোসাইনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ভুক্তভোগী প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


সম্পর্কিত খবর