জাতীয়
জাতীয় চিড়িয়াখানায় যেতে গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া

ঈদুল আজহার ছুটির শেষ দিনে রাজধানীর জাতীয় চিড়িয়াখানায় দেখা গেছে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই ছুটে এসেছেন রাজধানীর অন্যতম জনপ্রিয় এই বিনোদনকেন্দ্রে।
তবে আনন্দ ভ্রমণে এসে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের আগেই ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়েছে হাজারো মানুষকে। বিশেষ করে যানজট, অব্যবস্থাপনা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দর্শনার্থীরা।
রোববার (৩১ মে) সরেজমিনে জাতীয় চিড়িয়াখানা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি আরও বেড়ে যায়।
চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘ সারি, আশপাশের সড়কে যানবাহনের ধীরগতি এবং যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্র ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগ, সাধারণ সময়ে যে দূরত্বে যেতে ২০ থেকে ৩০ টাকা ভাড়া লাগে, সেখানে আজ তাদের গুনতে হয়েছে দ্বিগুণ কিংবা কখনও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া।
সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার সামনে ও আশপাশের এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন ধরনের পরিবহন এলোমেলোভাবে পার্কিং করা হয়েছে। এতে সড়কের কার্যকর অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকায় অন্য যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে সড়কে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, শিশুদের আবদারের কারণে ছুটির শেষ দিনে চিড়িয়াখানায় আসলাম। কিন্তু কমার্স কলেজ মোড়ে নামার পর মূল ফটক পর্যন্ত আসতে রিকশাচালক ১০০ টাকা ভাড়া চাইল। সাধারণ সময়ে যেখানে ৩০ বা ৪০ টাকায় আসা যায়, সেখানে এত বেশি ভাড়া নেওয়া অযৌক্তিক। ঈদের আনন্দের দিনেও মানুষকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
গাজীপুর থেকে আসা দর্শনার্থী রুবেল আহমেদ বলেন, চিড়িয়াখানার ভেতরে ঘুরে ভালো লাগছে, কিন্তু এখানে পৌঁছাতে এসে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। রাস্তার দুই পাশে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকশ মিটার রাস্তা পার হতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় লেগেছে।
এদিকে, যানজটের কারণে অনেক দর্শনার্থীকে হেঁটেই চিড়িয়াখানার মূল ফটকে যেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে আসা পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ কেউ রোদে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকার কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
মিরপুরের স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল হক বলেন, প্রতিটি ঈদেই একই অবস্থা দেখা যায়। দর্শনার্থী বাড়ে, কিন্তু যানবাহন ব্যবস্থাপনা বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসে না। ফলে মানুষকে একই ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
চিড়িয়াখানা এলাকায় দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন ট্রাফিক সদস্যকে সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা গেলেও দর্শনার্থীদের অভিযোগ, জনসমাগমের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে কমার্স কলেজ মোড় থেকে মূল ফটক পর্যন্ত এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
রিকশাচালক আব্দুর রহিমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আজ ছুটির শেষ দিন হওয়ায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। যানজটের কারণে একটি ট্রিপ দিতে অনেক সময় লাগে। তাই কিছু চালক ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন। তবে সবাই অতিরিক্ত ভাড়া নেয় না।
আরেক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক লিটন মিয়া বলেন, রাস্তায় এত জ্যাম যে একবার যাওয়া-আসা করতে অনেক সময় চলে যায়। তারপরও কিছু চালক সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছেন, এটা ঠিক না।
ছুটির শেষ দিনে জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতরে প্রাণীদের দেখতে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুদের হাসি, পরিবারের আনন্দ আর ঘুরে বেড়ানোর উচ্ছ্বাসে মুখর ছিল পুরো এলাকা। কিন্তু চিড়িয়াখানায় পৌঁছানোর আগে যানজট ও অতিরিক্ত ভাড়ার ভোগান্তি সেই আনন্দে কিছুটা হলেও ছায়া ফেলেছে। দর্শনার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে ঈদ বা বড় কোনো ছুটিতে যেন তাদের এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে না হয় এবং পরিবার নিয়ে স্বস্তিতে জাতীয় চিড়িয়াখানায় আসা-যাওয়া করতে পারেন।







