জাতীয়

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

বেরোবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন- খবরের থাম্বনেইল ফটো

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটলেও তাঁরই বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) আজও চরম বৈষম্যের শিকার বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল।


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


সংসদ সদস্য বেলাল বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মহাপুরুষ হিসেবে শহীদ আবুসাঈদ যেভাবে বুক পেতে দিয়ে আত্মদান করেছিলেন, তাঁর বুকের সেই ঝড় পরবর্তীতে টর্নেডো হয়ে বাংলাদেশে ঘূর্ণিপাক তৈরি করে এবং স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটায়, যার ফলে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।


তিনি বলেন, সেই আবু সাঈদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এখনো চরম বৈষম্যের শিকার। ২০০৮ সালে ২২টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করার পর আজ পর্যন্ত এখানে একটি বিভাগও বাড়েনি। এর জবাব কি আপনারা দিতে পারবেন?


বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত সংকট তুলে ধরে তিনি বলেন, আজ ফাঁকা মাঠে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে আমাদের বসে থাকতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ এই ভ্যাপসা গরম। যদি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অডিটোরিয়াম থাকত, তাহলে সেটি উপচে পড়ত। এখানে কোনো হলরুম নেই, টিএসসি নেই, এমনকি শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থাও নেই।


শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। উপাচার্যের উদ্দেশে এমপি বেলাল বলেন, শহীদ আবু সাঈদ যে হলের ছাত্র ছিলেন, তাঁর জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয় কী করেছে, এর জবাব দিতে হবে। দুঃখের বিষয়, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো কিছুই করেনি। আমরা তাঁর নামে একটি হলের নামকরণ পর্যন্ত করতে পারিনি। তাহলে আবু সাঈদকে নিয়ে এত আলোচনার কী অর্থ?


তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, শুধু বেরোবি নয়, আজ গোটা রংপুর অঞ্চলই বৈষম্যের শিকার। এটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।


বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর মো. ফেরদৌস রহমান, রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন, রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন ও শাহরিয়ার সোহাগ বক্তব্য দেন।


এছাড়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পর্কিত খবর