জাতীয়

হাদি হত্যার রহস্যকে ‘পলিটিক্যাল টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে: আম্মার

ডেস্ক

শেয়ারঃ

হাদি হত্যার রহস্যকে ‘পলিটিক্যাল টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে: আম্মার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে বর্তমান সরকার পর্যন্ত শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডকে একটি ‘পলিটিক্যাল টুল’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে যখনই কোনো সংকট তৈরি হয়—যেমন তেলের দাম বৃদ্ধি, শিশুমৃত্যু বা বড় ধরনের দুর্ঘটনা—তখনই সরকারের পক্ষ থেকে হাদি হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সামনে আনা হয়।


শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে টিএসসি-সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।


সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য জি এ সাব্বির বলেন, গত সপ্তাহে তারা সরকারকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলেন হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট রূপরেখা জানানোর জন্য। কিন্তু রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। তার অভিযোগ, সরকার বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না।


তিনি বলেন, সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হয়েছে, ঠিক কত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি।


সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার যদি পরিষ্কার অবস্থান না জানায়, তাহলে তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত সংস্থাগুলোর কাছে ধারাবাহিকভাবে জবাবদিহি দাবি করবে। প্রয়োজন হলে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে এবং বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দেশীয় অপরাধীদের চিহ্নিত করা, বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলেও তারা জানান।


উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।


গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি দিলে আদালত অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন এবং মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হস্তান্তর করা হয়। এখনো সিআইডি মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি।


সম্পর্কিত খবর