জাতীয়

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইয়ুথ সামিট: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের জয়জয়কার

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ইয়ুথ সামিট: বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের তরুণদের জয়জয়কার- খবরের থাম্বনেইল ফটো

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বিশ্বব্যাংকের সদর দপ্তরে শুরু হয়েছে ১৩তম ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিট ২০২৬। এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তরুণ চেঞ্জমেকার তিশা খন্দকার ও মো. তৌফিক এলাহী। বিশ্বনেতা, নীতিনির্ধারক এবং তরুণ উদ্ভাবকদের সঙ্গে তারা বৈশ্বিক কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অংশ নিচ্ছেন।


দুই দিনব্যাপী এই সামিটের উদ্বোধন করেন বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা। তিনি বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। পরে আইএফসি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর মাখতার ডিওপ উদীয়মান অর্থনীতিতে, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায়, টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতে বেসরকারি বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।


সামিটের প্রথম দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল “Beyond the Pitch Deck: Both Sides of the Funding Table” শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা। এতে উঠে আসে তরুণ উদ্যোক্তারা কীভাবে অর্থায়ন সংগ্রহ করেন এবং বিনিয়োগকারীরা কোন বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এই আলোচনায় বাংলাদেশের উদ্ভাবনী উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা তুলে ধরেন টাইগার নিউ এনার্জি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিকোল মাও। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত প্রযুক্তিগত রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এটি এখন ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্টের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার।


নিকোল মাও বলেন, বাংলাদেশ এখন শুধু স্থিতিশীল বাজার নয়; এটি প্রযুক্তি গ্রহণ ও স্কেলযোগ্য উদ্ভাবনের একটি শক্তিশালী কেন্দ্র। উন্নয়নমূলক প্রভাবের পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্ভাবনা খুঁজছেন এমন বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের যুব-নেতৃত্বাধীন ইকোসিস্টেমের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তার এই বক্তব্য বাংলাদেশের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও জোরালো করেছে।


সামিটের দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে ইনোভেশন ল্যাব, যেখানে বাংলাদেশের দুই প্রতিনিধি তাদের সমাধানভিত্তিক প্রস্তাব আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সামনে উপস্থাপন করবেন। তিশা খন্দকার ইয়ুথ এন্টারপ্রেনিউরশিপ ক্যাটাগরিতে অ্যাকসেস টু ফাইন্যান্স বিষয়ে একটি এআই-ভিত্তিক সমাধান “এগ্রিক্রেডিট” উপস্থাপন করবেন। তার প্রস্তাব উন্নয়নশীল দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের প্রাথমিক অর্থায়ন পাওয়ার পথে থাকা বাধাগুলো দূর করার ওপর কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে মো. তৌফিক এলাহী এডুকেশন অ্যান্ড স্কিলস ক্যাটাগরিতে এআই-ভিত্তিক সমাধান “ফ্রম স্কিলস টু জবস: টিভিইটি ট্রানজিশনস” শীর্ষক একটি কৌশলগত রোডম্যাপ উপস্থাপন করবেন। তার সমাধানের লক্ষ্য শিক্ষাগত ও দক্ষতার ঘাটতি কমিয়ে তরুণদের শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে সফলভাবে যুক্ত করা।


বিশ্বব্যাপী আগামী এক দশকে উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে ১.২ বিলিয়নের বেশি তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে। এমন বাস্তবতায় তিশা ও তৌফিকের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে, বাংলাদেশি তরুণরা শুধু বৈশ্বিক পরিবর্তনের দর্শক নয়—বরং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের রূপরেখা তৈরির সক্রিয় অংশীদার।


উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপ ইয়ুথ সামিট ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের জন্য একটি শীর্ষ বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। এবারের সামিটের প্রতিপাদ্য “ফিউচারওয়ার্কস: ডিজাইনিং জবস ফর দ্য ডিজিটাল এজ”, যেখানে কর্মসংস্থান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি এবং সবুজ উদ্ভাবনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


সম্পর্কিত খবর