আন্তর্জাতিক
আনুষ্ঠানিক সংলাপ না হলেও বার্তা আদান–প্রদান অব্যাহত
তেল সরবরাহ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগে কিউবা

তেল সরবরাহ বন্ধের সম্ভাব্য হুমকিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে কিউবা। দেশটির এক শীর্ষ কূটনীতিক জানিয়েছেন, হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও তা এখনো আনুষ্ঠানিক সংলাপে রূপ নেয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস ফার্নান্দেজ ডি কোসিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবগত যে কিউবা একটি “গুরুতর, অর্থবহ ও দায়িত্বশীল সংলাপের” জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত আলোচনার জন্য কোনো কাঠামোগত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাত্রা বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কিউবার ঘনিষ্ঠ মিত্র ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থানের মুখে পড়ে হাভানা।
ডি কোসিও বলেন, “আমাদের মধ্যে বার্তা বিনিময়, দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক চ্যানেল চালু রয়েছে। তবে এখনো আলোচনার কোনো টেবিল স্থাপন হয়নি।” তিনি যোগ করেন, যোগাযোগ থাকা আর আনুষ্ঠানিক সংলাপ হওয়া—এই দুটির মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া পৃথক এক সাক্ষাৎকারে কিউবার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংলাপ শুরু হলে তা ভবিষ্যতে গঠনমূলক আলোচনায় রূপ নিতে পারে। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, কিউবার সংবিধান, সমাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কাঠামো আলোচনার আওতার বাইরে থাকবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, তেল সরবরাহ ও আঞ্চলিক রাজনীতিকে ঘিরে সৃষ্ট এই টানাপোড়েনের মধ্যেও উভয় পক্ষ যোগাযোগ চালু রাখায় কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করা যাচ্ছে না।








