জাতীয়

জামায়াতের বিবৃতি

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্য সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিকর ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করে এর তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র। মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে এ দেশের জনগণ অতীতের ন্যায় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছে।”


তিনি বলেন, “সম্প্রতি ঢাকায় দায়িত্ব গ্রহণের পর ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার, আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এবং রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্মানবোধের পরিপন্থী। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণকে একীভূত জনসংখ্যার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং এমন কিছু মন্তব্য করা, যা বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রসত্তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণার জন্ম দিতে পারে—তা কোনো দায়িত্বশীল কূটনীতিকের কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। তার এ মন্তব্যে সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে দেশের জনগণ মনে করে।”


মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “দীনেশ ত্রিবেদী ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, সরকারের উচিত তার কাছ থেকে সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া। তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কোনো ধারণা প্রকাশ করে থাকেন, তবে তা অবশ্যই নিন্দনীয়। আমরা সরকারের কাছে বিষয়টির মর্যাদাপূর্ণ সুরাহা প্রত্যাশা করি।”


তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা, ন্যায়বিচার এবং প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের ভিত্তিতে সহযোগিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকা উচিত। কোনো পক্ষের আধিপত্যবাদী বা কর্তৃত্ববাদী মনোভাব এ সম্পর্কের জন্য কখনোই কল্যাণকর হতে পারে না।”


বিবৃতিতে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ও সংযত ভাষা ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনেরও অনুরোধ জানানো হয়।


সম্পর্কিত খবর