আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ‘ভিআইপি পাসে’র কথা ভাবছেন ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে নতুন উদ্যোগ বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজ মালিকদের জন্য অর্থের বিনিময়ে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা এসকর্ট দেওয়ার একটি ‘ভিআইপি পাস’ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এমন পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে জাহাজ মালিকরা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হন।
যদিও ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহের মধ্যেই বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী ‘স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত’ এবং ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ হবে। এদিকে একই সময়ে ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে, প্রণালীটি অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক ট্যাঙ্কারগুলোর কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু সেবার বিনিময়ে ‘ফি’ আদায় করা হতে পারে।
বর্তমানে বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে। ফলে অনেক জাহাজই বীমা সুবিধা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় জাহাজ মালিকদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বীমা কোম্পানিগুলোকে কভারেজ দিতে রাজি করানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।
জ্বালানি খাতের দুটি সূত্র জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় জাহাজ মালিকরা নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা এসকর্টসহ দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা পাবেন। এক সূত্রের ভাষায়, ‘এটি অনেকটা ভিআইপি পাসের মতো হবে, যেখানে অর্থের বিনিময়ে নিরাপদ ও দ্রুত ট্রানজিট সুবিধা দেওয়া হবে।’
এদিকে সাবেক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্রস্তাবের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নিরাপত্তা দায়িত্বের অংশ চাপিয়ে দেওয়া। তার মতে, হরমুজ অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। জি-৭ সম্মেলনের সময় ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এমন আলোচনা সামনে আনা হয়েছে।
এর আগে এপ্রিল মাসে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের অধিকার ইরানের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। তিনি বলেছিলেন, ‘ইরানকে ফি নিতে দেওয়ার চেয়ে আমি চাই আমরা সেই অর্থ সংগ্রহ করি।’ এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন (ডিপিএ) ব্যবহার করে দেশটির বীমা কোম্পানিগুলোকে হরমুজগামী জাহাজের জন্য বীমা কভারেজ দিতে বাধ্য করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। ১৯ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা থাকলেও সম্ভাব্য নতুন উত্তেজনার আশঙ্কায় অনেক জাহাজ মালিক এখনো অপেক্ষার অবস্থানে রয়েছেন। পণ্যবাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান ক্লেপারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর বাইরে পারস্য উপসাগরে প্রায় ৫০০টি জাহাজ অপেক্ষা করছে, যার মধ্যে প্রায় ২২০টি তেলবাহী ট্যাংকার।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার অগ্রগতির খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তবে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় দাম এখনো বেশি রয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স দাবি করেছেন, ট্রাম্পের উদ্যোগে স্বাক্ষরিত সমঝোতার ফলে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং জ্বালানি পরিবহন দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনকে “ভিত্তিহীন জল্পনা” বলে মন্তব্য করেন।







