ক্যাম্পাস
রুয়েটের ছাত্র হল-২ এ চোর সন্দেহে যুবক আটক

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ছাত্র হল-২ থেকে চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টার দিকে হলে প্রবেশের সময় তাকে আটক করা হয়। বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার হেফাজতে রয়েছেন।
হল প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ছাত্র হল-২-এর চতুর্থ থেকে দশম তলা পর্যন্ত পূর্ব ও পশ্চিম ব্লকের বিভিন্ন বাথরুমে ধারাবাহিকভাবে শাওয়ার হেড চুরির ঘটনা ঘটছিল। এ পর্যন্ত মোট ২২টি শাওয়ার হেড চুরি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হল সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি হলে প্রবেশের সময় ছাত্র হল-২-এর কেয়ারটেকার আনোয়ার হোসেন রাজনের নজরে আসেন। সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে তিনি ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় মো. জুয়েল রানা (২৭), পিতার নাম মৃত আমিরুল ইসলাম । তিনি রাজশাহীর চারঘাট থানার বাসিন্দা।
ঘটনার সময় ছাত্র হল-২-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন, সহকারী প্রভোস্ট মো. জুনায়েদ হোসেন, রেদওয়ানুল হক এবং মোহাম্মদ রাসেল আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার প্রধান আবুল হাসেম ও আনসার প্লাটুন কমান্ডার শাহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
পরে হল প্রশাসনের উপস্থিতিতে আটক ব্যক্তিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তিনি এখনও নিরাপত্তা শাখার হেফাজতে রয়েছেন।
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আলাল হোসেন বলেন, “হলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে ছাত্র হল-২-এ চারজন নিরাপত্তারক্ষী কর্মরত রয়েছেন এবং রাতের বেলায় দুইজন নিরাপত্তারক্ষী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। হলের দুটি প্রবেশদ্বার থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
সিসিটিভি ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে হলের প্রতিটি তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা নেই। তবে এ বিষয়ে রুয়েটের আইসিটি সেল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অচিরেই হলের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে, সাম্প্রতিক চুরির ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে হলের শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে প্রতিটি তলায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা নজরদারি বৃদ্ধি এবং হলের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।







