জাতীয়

জনকণ্ঠকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিক নেতাদের

ডেস্ক

শেয়ারঃ

জনকণ্ঠকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম সাংবাদিক নেতাদের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

দৈনিক জনকণ্ঠে সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গণছাঁটাই, কারণ দর্শানোর নোটিশ, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিয়ম, হয়রানি এবং পত্রিকা অফিস বন্ধ রাখার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সাংবাদিক নেতারা ও জনকণ্ঠের কর্মীরা।


কর্মসূচি থেকে দাবি আদায়ে জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। দাবি পূরণ না হলে জনকণ্ঠ কার্যালয় ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা। রোববার (২১ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।


দৈনিক জনকণ্ঠ সাংবাদিক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা সংহতি প্রকাশ করেন।


ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ছাঁটাই, শোকজ, হয়রানি এবং অফিস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় জনকণ্ঠ কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সতর্ক করেন।


ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকদের চাকরি নিয়ে ‘ছিনিমিনি খেলা’ বন্ধ করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের সুযোগ এখনও রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ অনড় অবস্থানে থাকলে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।


অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠ কর্তৃপক্ষ ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গণছাঁটাই, শোকজ এবং অফিস বন্ধ রাখার মাধ্যমে কর্মীদের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।


দৈনিক জনকণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত বার্তা সম্পাদক এবং ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির জারিফ বলেন, জনকণ্ঠে চলমান পরিস্থিতি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়, বরং পুরো গণমাধ্যম শিল্পের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি অবিলম্বে অফিস খুলে দিয়ে পত্রিকার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।


ডিআরইউর সাংগঠনিক সম্পাদক ও জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি মীর মোহাম্মদ জসিম বলেন, ভয়ভীতি বা প্রশাসনিক চাপ প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।


ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি রাশেদুল হাসান জনকণ্ঠের সাংবাদিকদের ছাঁটাই প্রত্যাহার ও চলমান সংকট সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


জনকণ্ঠের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাজ করা সাংবাদিক ও কর্মচারীদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ করা হচ্ছে। শ্রম আইন, ওয়েজ বোর্ড এবং সাংবাদিকদের মৌলিক অধিকার উপেক্ষা করে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। কর্মস্থলের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জনকণ্ঠের বর্তমান ব্যবস্থাপনায় এমন কিছু ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন, যারা সাংবাদিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রশাসনিক নিপীড়ন চালাচ্ছেন। তারা অবিলম্বে ছাঁটাই ও কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রত্যাহার, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পত্রিকা অফিস খুলে দেওয়ার দাবি জানান।


সম্পর্কিত খবর