জাতীয়

নির্বাচনি প্রচারে নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ

ডেস্ক

শেয়ারঃ

নির্বাচনি প্রচারে নারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ- খবরের থাম্বনেইল ফটো

দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারীদের ওপর হামলা, হয়রানি ও অবমাননাকর আচরণের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখা।


বুধবার সকালে ঢাকা-৪ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি রাজধানীর ধোলাইপাড় চৌরাস্তা থেকে শুরু হয়ে আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন। তিনি বলেন, “যারা দীর্ঘ ১৯ বছর দেশের বাইরে অবস্থান করেছে, তারাই আজ গুপ্ত শক্তি হিসেবে পরিচিত। জামায়াতে ইসলামীর কোনো নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি; বরং জেল-জুলুম ও নির্যাতনের মধ্য দিয়েই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।”


তিনি বলেন, এই আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ ১১ জন নেতাসহ অসংখ্য নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী শাসনের পতনের পর যারা বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছে, প্রকৃতপক্ষে তারাই গুপ্ত শক্তি—এ কথা জনগণ উপলব্ধি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন বলেন, দীর্ঘদিন জামায়াতে ইসলামীকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা করা হলেও দলটি থেমে যায়নি। নিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। দেশের মানুষ দেখেছে কারা দুঃসময়ে জনগণের পাশে ছিল এবং কারা বিদেশে অবস্থান করেছে।


নারীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে হিজাব খুলে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা কোনো সভ্য সমাজ মেনে নিতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নারীদের সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কথা বলছে, অথচ দলীয়ভাবে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।


তিনি আরও বলেন, “সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—নারীর নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় নারী সমাজ বাধ্য হয়ে রাজপথে নামবে।”


ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন পরিচালিকা রাবেয়া খানমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা এবং মহানগরী মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি।


সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসনের সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তারসহ বিভিন্ন থানার মহিলা সেক্রেটারিবৃন্দ।


সম্পর্কিত খবর