আন্তর্জাতিক

কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির আহ্বান ওএএসের

ডেস্ক

শেয়ারঃ

কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির আহ্বান ওএএসের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

আমেরিকা মহাদেশভুক্ত দেশগুলোর আঞ্চলিক সংস্থা ‘অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটস (ওএএস)’ কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলায় আটক সব রাজনৈতিক বন্দীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব দেশে ভবিষ্যতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা হলে তাতে পর্যবেক্ষণের প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি।


খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


বামপন্থী নেতৃত্বাধীন এই তিন দেশে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শত শত নেতাকর্মী ও সমর্থক বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তাদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।


ভ্যাটিকানের সঙ্গে একটি সমঝোতার পর গত মার্চে কিউবা বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের তত্ত্বাবধানে বন্দী মুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মঙ্গলবার পানামায় অনুষ্ঠিত ওএএসের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দীদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানায়।


উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার ৩২টি দেশ নিয়ে গঠিত ওএএস। সংস্থাটি বলেছে, রাজনৈতিক কারণে মানুষকে দীর্ঘদিন আটক রাখা আন্তঃআমেরিকান ব্যবস্থার নীতি ও অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।


ওএএস আরও বলেছে, কিউবা, নিকারাগুয়া ও ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। এ লক্ষ্যে দেশগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তা পর্যবেক্ষণে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে কিউবা গত ১২ মার্চ ভ্যাটিকানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে সদিচ্ছার প্রতীক হিসেবে ৫১ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় এপ্রিল মাসে আরও প্রায় ২ হাজার ব্যক্তিকে ক্ষমা করার সিদ্ধান্তের কথাও জানায় সরকার।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর গত জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় বন্দী মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। এ লক্ষ্যে তিনি ফেব্রুয়ারিতে একটি সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) আইন কার্যকর করেন।


মানবাধিকার বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলায় এখনও প্রায় ৪০০ বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক আটক রয়েছেন।


জাতিসংঘের একদল বিশেষজ্ঞের মতে, নিকারাগুয়ায় ১০০ জনের বেশি ব্যক্তিকে গুম করা হয়েছে বা তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।


এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন ৭৩ বছর বয়সী আদিবাসী নেতা ব্রুকলিন রিভেরা। প্রায় তিন বছর আটক থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং গত ৩০ মে তিনি মারা যান।


সম্পর্কিত খবর