আন্তর্জাতিক
মার্কিন রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে সিনেট প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে অনন্য নজির গড়েছেন অ্যাবর কাওয়াস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট ১২ (কুইন্স, নিউ ইয়র্ক) থেকে প্রাইমারি নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেছেন তিনি।
গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কাওয়াসের মূল প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন ফিলিপিনো-আমেরিকান অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা। প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে রাগাকে পরাজিত করেন কাওয়াস।
জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কাওয়াসের এই ঐতিহাসিক বিজয়ের পেছনে নিউইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহান মামদানির সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মামদানি শুরু থেকেই কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারণায় পূর্ণ সমর্থন দেন।
এছাড়াও মামদানির প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক এজেন্ডাকে সামনে রেখেই কুইন্সে তার নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন কাওয়াস, যেখানে তিনি সাশ্রয়ী মূল্যে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার প্রসার এবং অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার মতো বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বন্ধে এবং এ ধরনের হামলায় অর্থায়নকারী সংগঠনগুলোর ওপর কর আরোপের প্রচারণায় সোচ্চার থেকেছেন, যা ভোটারদের তার প্রতি আকৃষ্ট করতে সহায়তা করেছে।
জানা গেছে, নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বড় হন। তবে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (নাইন-ইলেভেন) পর মার্কিন অভিবাসন দপ্তর তার নথিপত্রহীন বাবাকে গ্রেফতার করে এবং তিন বছর ডিটেনশন সেন্টারে রাখার পর জর্ডানে ফেরত পাঠায়। এই ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং তাকে অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করে।
রাজনীতিতে প্রবেশের আগে তিনি ২০১০ সাল থেকে নিউ ইয়র্কে আরব ও মুসলিম আমেরিকান সম্প্রদায়, নাগরিক অধিকার এবং বর্ণবাদ বিরোধী বিভিন্ন সংগঠনে দীর্ঘদিন অ্যাডভোকেসি ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন।
এদিকে কাওয়াসের এই সাফল্যকে শুধু ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার বিজয়ের খবরে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আবির কাওয়াসের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রভাবের প্রতিফলন।







