ক্যাম্পাস
৩ দশক পর জাবির সিনেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, সুযোগ পাচ্ছেন না জাকসুর ভিপি-জিএস

আজ ২৭ জুন বেলা তিনটা থেকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ৪৩তম সিনেট অধিবেশন। প্রায় তিন দশক পর এবার শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও সুযোগ থাকছে না জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের।
এই অধিবেশনে জাকসু থেকে ভিপি ও জিএসসহ পাঁচজন মনোনীত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি অংশগ্রহণের কথা থাকলেও মূলত বৈধ ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিতে পারছেন না তারা।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ১৯(১)(ক) অনুযায়ী সিনেটে পাঁচজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির বিধান রয়েছে। তবে ধারা ১৯(২) অনুযায়ী, শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব না থাকলে তাঁদের সদস্যপদ বাতিল হবে।
এর আগে, গত ১৬ নভেম্বর জাকসু সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জাকসুর পাঁচজন প্রতিনিধিকে সিনেট সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। তারা হলেন- জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জিএস মাজহারুল ইসলাম, এজিএস (পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান, এজিএস (নারী) আয়েশা সিদ্দিকা মেঘলা ও পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক শাফায়েত মীর। তবে এই বছর মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রত্ব শেষ করেন জিএস মাজহারুল ইসলাম এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ছাত্রত্ব হারিয়েছে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু।
বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ম অনুযায়ী, সিনেট অধিবেশনের পূর্বেই ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায়, ভিপি-জিএসের সিনেট সদস্য পদ বাতিল হয়েছে।
জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য মহোদয় আমাদের জানিয়েছেন নীতিগতভাবে সিনেটে আমার এবং জিতু ভাইয়ের অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে অংশ নিবো না। আমাদের পরিবর্তে কারা শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হবে সে বিষয়ে আজ আলোচনাসাপেক্ষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জাকসুর ভিপি ও জিএসের সিনেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও সিনেট সচিব এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এক্ট ১৯৭৩-এর ১৯(২) অনুযায়ী ছাত্রত্ব না থাকলে কেউ ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সিনেটে অংশগ্রহণ করতে পারেন না। জাকসুর ভিপি ও জিএসের ছাত্রত্ব না থাকায় চিঠি পাঠানো হয় নি।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান গণমাধ্যমকে বলেন, আগামীকাল তারা সিনেট অধিবেশনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। কারণ, সিনেট সদস্যপদ সংক্রান্ত গঠনতন্ত্রের সঙ্গে জাকসুর গঠনতন্ত্রের একটি সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। সিনেটের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব শেষ হলে তাদের সিনেট সদস্যপদও বাতিল হয়ে যায়। তবে একই পরিস্থিতিতে জাকসুর সদস্যপদ বহাল থাকে। এ অসামঞ্জস্য দূর করতে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। এ লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে একটি কমিটিও গঠন করেছি।







