ক্যাম্পাস
শিবির যদি খারাপ কাজ করে, তাদের সমালোচনা করো — শিশির মনির

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, "শিবির যদি খারাপ কাজ করে, তাদের সমালোচনা করো। তাদের এড়িয়ে চলো। আমি তো ওদের সামনেই বলে যাচ্ছি, তোমরা তাদের এড়িয়ে চলো। তাদের এমন শিক্ষা দাও, যেন তারা বুঝতে পারে যে খারাপ কাজ করলে আমরা তোমাদের সমর্থন করব না।"
রোববার (২৮ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "তোমরা তরুণ মন। তোমরাই পারো জাতির পরিবর্তন আনতে। আমি তোমাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মতো মেধাবী মানুষদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বেছে নিয়ে যথাযথ জায়গায় বসানো সম্ভব না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই দেশ প্রকৃত অর্থে সৃজনশীলতা ও প্রতিভার বিকাশ দেখতে পাবে না। প্রাইভেট, পাবলিক, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথ কিংবা জাহাঙ্গীরনগরসহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান, বহুমুখী মেধাসম্পন্ন, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তার তরুণদের যথাযথ স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।"
নবীনদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, "যদি তোমরা প্রতিভাবান হও, যদি সত্যিই যোগ্য হও, তাহলে মানুষ অবশ্যই তোমাদের আমন্ত্রণ জানাবে। সত্যিকার অর্থে তোমাদের সক্ষমতা থাকলে কেউ তোমাদের আটকে রাখতে পারবে না। রাজনৈতিক আধিপত্যের দিকে কখনো তাকাবে না। রাজনৈতিক আঁকাবাঁকা বা জটিল পথকে বিবেচনায় নেবে না। কে বিএনপি করে, কে জামায়াত করে, কে শিবির করে কিংবা কে অন্য কোনো দল করে, এসব অপ্রাসঙ্গিক। প্রাসঙ্গিক হলো যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে প্রতিষ্ঠিত করা। আর এজন্য আমাদের প্রয়োজন প্রতিভাবান মানুষ।"
তিনি আরও বলেন, "এসো, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। একটি প্রগতিশীল জাতি গড়ার স্বপ্ন দেখি। দূরদর্শী চিন্তা করি। এমন একটি বাংলাদেশের কথা ভাবি, যা আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ হবে। এমন একটি বাংলাদেশ, যাকে দেখতে বিশ্বের মানুষ আসবে। আইনি অঙ্গন, মানবাধিকার সুরক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সৃজনশীল মনন, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসন এবং উচ্চশিক্ষা—সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ উন্নয়নের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীরা বিভক্ত হয়ে পড়লে আমার খুব কষ্ট হয়। রাজনীতি যে-ই করুক, যে সংগঠনেরই হোক, সরকার বা বিরোধী দল—যে-ই সত্য ও ন্যায়ের পথে থাকবে, তোমরা তাদেরই সমর্থন করবে।"
শিবির সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এ ছাড়া প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন, ন্যাশনাল রিসার্চ ইউনিভার্সিটি হায়ার স্কুল অব ইকোনমিকস (রাশিয়া)-এর ক্যান্ডিডেট অব সায়েন্স ড. মো. নূরুল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সাদী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. রিয়াজুল ইসলাম।







