আন্তর্জাতিক
গাজায় গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগ
ফ্রান্সে দুই ইসরায়েলি নাগরিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান গণহত্যায় সহায়তার অভিযোগে দুই ইসরায়েলি নারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ফ্রান্সের বিচার বিভাগ। অভিযুক্তরা হলেন নিলি কুফার-নাউরি ও র্যাচেল তিউতু। তাঁরা দুজনই ইসরায়েলি নাগরিক হলেও একই সঙ্গে ফ্রান্সের নাগরিকত্ব ধারণ করেন।
ফরাসি দৈনিক লে মঁদ সোমবার এক প্রতিবেদনে জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি ত্রাণ পৌঁছাতে বাধা দিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনে ভূমিকা রেখেছেন।
নিলি কুফার-নাউরি একজন ফরাসি-ইসরায়েলি আইনজীবী এবং কট্টরপন্থী সংগঠন ‘ইসরায়েল ইজ ফরএভার’-এর প্রধান। অপর অভিযুক্ত র্যাচেল তিউতু গাজায় ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশে বাধা দেওয়া সংগঠন ‘তসাভ ৯’-এর মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত। ফরাসি কর্তৃপক্ষের সন্দেহ, গাজামুখী ত্রাণবাহী যান আটকে দেওয়ার সংগঠিত কার্যক্রমে এই দুই নারী প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করে নিলি কুফার-নাউরি বলেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে তাঁর ফ্রান্সে যাতায়াত কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, একই অভিযোগে ‘তসাভ ৯’-এর অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফ্রান্সে তদন্ত চলছে।
এই মামলায় ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠন ‘আল-হক’-সহ একাধিক ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন আইনি প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এর আগে আল-হককে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কারণ, প্রথমবারের মতো গাজায় মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে ইউরোপের কোনো রাষ্ট্র সরাসরি আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলো। এটি ইসরায়েলের গাজা অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় জবাবদিহির চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।








