ক্যাম্পাস
২০ ডেলিগেটের অর্ধেকই প্রক্টরের বিভাগের, প্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে জবিতে বিতর্ক

ছবি : সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আয়োজিত 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ' শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) থেকে ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি (ডেলিগেট) দল মনোনীত হয়েছে। তবে প্রতিনিধি তালিকায় প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিনের বিভাগ কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১০ জন শিক্ষার্থীর অন্তর্ভুক্তি ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ৮ জুলাই ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোল্লা মেজবাহুল দারাইনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সিএসই বিভাগ থেকে ১০ জন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৩ জন, নাট্যকলা বিভাগ থেকে ২ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ জন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ জন, ফিন্যান্স বিভাগ থেকে ১ জন এবং অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস (এআইএস) বিভাগ থেকে ১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হয়েছেন।
তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিভাগের মেধাবী ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় শিক্ষার্থী থাকা সত্ত্বেও কোন মানদণ্ডে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে মেধাবী ও বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন। কিন্তু কোন মানদণ্ডে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একটি বিভাগ থেকেই অর্ধেক প্রতিনিধি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।"
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, "এ ধরনের জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিলে বিভ্রান্তি দূর হবে।"
শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিনিধি নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো নীতিমালা বা মানদণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন প্রথমে বলেন, "আমি একটি মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলব। আপনি প্রক্টর অফিসে এসে বিষয়টি নিন।"
পরে প্রতিনিধি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আমাকে এক ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থীর নাম দিতে বলা হয়েছিল। আমার পরিচিত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই আমার বিভাগের হওয়ায় সেখান থেকেই বেশি নাম দিয়েছি। পাশাপাশি ওই সময়ের মধ্যে অন্য যাদের নাম পেয়েছি, সেগুলোও তালিকাভুক্ত করেছি। পরে আরও অনেকের নাম এসেছিল, কিন্তু তখন ২০ জনের তালিকা পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো আর অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।"
সব বিভাগ থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার কোনো নির্দেশনা ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এ ধরনের কোনো নীতিমালা বা নির্দেশনা আমাকে দেওয়া হয়নি। রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে শুধু বলা হয়েছিল, এক ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন শিক্ষার্থীর নাম দিতে।"
উল্লেখ্য, 'তারুণ্য, স্টার্টআপ ও সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ' শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন। তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গঠনে তাদের ভূমিকা তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।







