ক্যাম্পাস
যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধে জবিতে সচেতনতামূলক কর্মশালা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ফিন্যান্স বিভাগের উদ্যোগে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ নীতিমালা-২০২৬’-এর আলোকে একটি বিশেষ সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. বায়েজিদ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন ও জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া। প্রধান আলোচক ছিলেন যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটির সদস্য ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারজানা আহমেদ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা শেখ আলমগীর হোসেন।
তিনি বলেন, “Prevention is better than cure" অর্থাৎ, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমরা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধকে বেশি গুরুত্ব দিই। তাই এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই না কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটুক; সচেতনতার মাধ্যমেই এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।”
স্বাগত বক্তব্যে বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. নাফিসা রওনক বলেন, “অনেক সময় অজান্তেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায়। সম্পর্কের ছলে বা ঠাট্টা করতে গিয়ে আমরা অন্যকে আঘাত করতে পারি। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবার আচরণ সংযত হওয়া প্রয়োজন, কারণ হয়রানির শিকার যে কেউ হতে পারে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্স বিভাগ প্রথম ও বৃহৎ পরিসরে এ কর্মশালার আয়োজন করায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। মানুষ যখন মনুষ্যত্ব হারায়, তখন সে পশুতে পরিণত হয়। যৌন নিপীড়ন মানুষকে পশু বানিয়ে তোলে। র্যাগিংও এক ধরনের নিপীড়ন। আমরা ক্যাম্পাসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং সব ধরনের নিপীড়ন দূর করতে বদ্ধপরিকর। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি বিভাগেই এ ধরনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী কমিটিকে আরও কার্যকরভাবে পুনর্গঠন করা হবে।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার ড. সাবিনা শরমীন বলেন, “আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ যেন অপরাধী না হয়, আবার কেউ যেন অপরাধের শিকারও না হয়। এরপরও কেউ অপরাধে জড়িয়ে পড়লে প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে।”
অধ্যাপক ড. মঞ্জুর মোর্শেদ ভূঁইয়া বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগই প্রথম এ ধরনের সচেতনতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে যেন কেউ এই আইন অপব্যবহার না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। কথাবার্তা ও আচরণে শালীনতা বজায় রেখে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. বায়েজিদ আলী বলেন, “ফিন্যান্স বিভাগ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা, নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভবিষ্যতেও অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।”
কর্মশালায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁরা যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালার বিভিন্ন দিক এবং আইনি প্রতিকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার সুযোগ পান।







