আন্তর্জাতিক

‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করতে হুথিদের নির্দেশ ইরানের

ডেস্ক

শেয়ারঃ

‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করতে হুথিদের নির্দেশ ইরানের- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক নৌপথ ও লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের নির্দেশ দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর যে হুমকি দিয়েছেন, তার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে।


বৃহস্পতিবার তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট আলোচনা শেষে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে যেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার জবাবে তারা বাব-আল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে দেয়।


তবে কীভাবে এই বার্তাটি পাঠানো হয়েছিল, কিংবা মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সূত্রগুলো।


এদিকে হুথির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যে ইয়েমেনের পার্বত্য অঞ্চল, হোদেইদাহ এবং এডেন উপসাগরের উপকূলীয় এলাকায় পর্যাপ্ত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং হামলা শুরুর আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে।


সূত্রটি আরও জানায়, ইয়েমেনে অবস্থানরত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরা এই জলপথটি বন্ধ করার চূড়ান্ত নির্দেশ দেবেন ও হামলার সময় নির্ধারণ করবেন।


প্রসঙ্গত, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণও করে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৭ শতাংশই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা এটিকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম নৌপথ করে তুলেছে।


সূত্রটি জানিয়েছে, ‘হুথিদের জন্য প্রণালীটি বন্ধ করে দেওয়া কঠিন হবে না, যারা গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপক আক্রমণ চালিয়েছে। যেকোনো বন্দুকধারীই নৌচলাচল ব্যাহত করতে পারে। নৌচলাচল ব্যাহত করার জন্য অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন নেই।’


এদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের তেল রপ্তানি সচল রাখতে লোহিত সাগরের পাইপলাইন ব্যবহার করছিল। বাব আল-মান্দেব বন্ধের হুমকিতে রিয়াদ এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সাথে দেখছে।


রিয়াদের ঘনিষ্ঠ দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরব ইরান ও হুথিদের হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে এবং রিয়াদ অবগত আছে যে, ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি এখন লোহিত সাগর নিয়ে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে।


জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, যা তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এবার বাব আল-মান্দেবে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা বিশ্বের মোট তেল-গ্যাস পরিবহনের একটি বিশাল অংশ ঝুঁকিতে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ২০০ ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নজিরবিহীন মন্দা ডেকে আনবে।


আঞ্চলিক সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ নেতারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য ব্যয়ভার বাড়িয়ে, লোহিত সাগরের নৌপরিবহণ এবং এই জলপথ দিয়ে সৌদি তেল রফতানির প্রবাহকে হুমকির মুখে ফেলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।


সম্পর্কিত খবর