আন্তর্জাতিক

প্যারিসের দক্ষিণে বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল

ডেস্ক

শেয়ারঃ

প্যারিসের দক্ষিণে বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে দাবানল- খবরের থাম্বনেইল ফটো

ছবি : সংগৃহীত

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের দক্ষিণে একটি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া দাবানলে রাতারাতি আরও বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা। মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় দিবস উদযাপনের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে লড়াই করছেন তারা।


রোববার রাজধানী থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার (৪০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্বে বিস্তৃত ফঁতেনব্লু বনাঞ্চলে আগুনের সূত্রপাত হয়। একসময়ের রাজকীয় শিকারক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় বর্তমানে রয়েছে শান্ত গ্রামাঞ্চল, যা পর্যটক, হাইকার ও পর্বতারোহীদের কাছে জনপ্রিয়।


খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


এর এক দিন পর দ্বিতীয় ও ছোট আকারের আরও একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং এই দাবানলে এখন পর্যন্ত ১, হাজার ৯০০ হেক্টরেরও (৪,৭০০ একর) বেশি এলাকা পুড়ে গেছে যা আয়তনে জিব্রাল্টারের প্রায় তিনগুণ বলে মঙ্গলবার দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন।


আঞ্চলিক অগ্নিনির্বাপক বাহিনীর মুখপাত্র পল-এদোয়ার লোরাঁ জানান, প্রায় ৮৫০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী বিশেষায়িত বিমান সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। দিনের বেলায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ আশা করছে।


মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ফ্রান্সে পালিত হচ্ছে জাতীয় দিবস, যা সাধারণত সন্ধ্যার আতশবাজি প্রদর্শনের মাধ্যমে উদযাপন করা হয়।


তবে তিন মাসের মধ্যে তৃতীয় তাপপ্রবাহে দেশটির অনেক এলাকা প্রচণ্ড গরমের মধ্যে থাকায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর এ বছর তাদের বার্ষিক আতশবাজি অনুষ্ঠান বাতিল করেছে। যদিও অনেক ক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়াই আতশবাজি ফোটানো হয়।


এ বছরের জাতীয় দিবস উদযাপনের সঙ্গে একই দিনে ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্স ও স্পেনের ম্যাচও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন, শেষ বাঁশির পর সমর্থকদের কেউ আনন্দ উদযাপন করতে, আবার কেউ হতাশা প্রকাশ করতে রাস্তায় নেমে আসতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দাবানলের কারণে ফঁতেনব্লু ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


কর্তৃপক্ষ আগুন ইচ্ছাকৃতভাবে লাগানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে। অগ্নিসংযোগের সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


আগুনের ব্যাপকতার কারণে বৃহত্তর প্যারিস অঞ্চলে নজিরবিহীনভাবে চারটি কানাডেয়ার অগ্নিনির্বাপক বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি ড্যাশ বিমান ও তিনটি পানি নিক্ষেপকারী হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।


সম্পর্কিত খবর