ক্যাম্পাস
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধর; রাজশাহীর সাথে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে হেনস্তার প্রতিবাদে এবং হেনস্থাকারীর যথাযথ শাস্তির দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ৭টার দিকে এই অবরোধ শুরু করেন তারা।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম ফুরকান উদ্দিন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। তার ভাষ্যমতে, বিনা টিকেটের যাত্রীকে ঘুষের বিনিময়ে সুবিধা দিচ্ছিলেন ট্রেনের দায়িত্বরত টিটি৷ তিনি এ বিষয়ে জানতে চাইলে এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাত এবং অনিয়মের প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ফুরকান। এসময় তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রেললাইন অবরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
ফুরকান উদ্দিন বলেন, " টিকেট ইস্যু না করে টিটি যাত্রীদের থেকে টাকা নিচ্ছিলেন। রেলের টাকা রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু টিকেট ইস্যু না করে অল্প টাকায় সুবিধা দিয়ে অর্থ পকেট বন্দী করায় একজন আইনবিভাগের শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক হিসাবে আমি প্রতিবাদ করি। এসময় পেছনে থেকে অতর্কিতভাবে আমার উপর হামলা করা হয়। আমার চশমা ভেঙে গেছে এবং বেশ আহত হয়েছি"
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হেনস্তার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে রাকসু। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে অবরোধ স্থলে অবস্থান করছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ আন্দোলনকে সমর্থন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে বলে জানিয়েছেন রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন,
"রেললাইন বন্ধ থাকবে। রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট লোকেরা নিজে আমাদের কাছে এসে এখন এটা সামলান। কাদের গায়ে হাত দিয়েছেন ঠাহর তো করতে হবে। পদ্মা এক্সপ্রেসের টিটির মাধ্যমে রাবির ১৯-২০ সেশনের এক শিক্ষার্থী ভাইকে অন্যায়ভাবে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্টেশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাদের কাছে এসে এ ব্যাপারে সমাধান করবে। নচেৎ রাজশাহীর সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। অভিযুক্তকে ক্ষমা চাইতে হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা দেখতে চাই"।
তিনি আরো লিখেন, "এর আগেও জানা অজানা এমন অনেক আচরণ রাবি শিক্ষার্থীদের সাথে করা হয়েছে। আজকে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীর দিকে কখনো রেলগুন্ডারা বাঁকা চোখেও যেন না দেখে সে ব্যবস্থা করতে হবে।







