জাতীয়

গাংনীতে এনসিপির তিন শীর্ষ নেতার ছবিতে ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়ে কুশপুত্তলিকা টাঙাল দুষ্কৃতকারীরা

মেহেরপুর প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

গাংনীতে এনসিপির তিন শীর্ষ নেতার ছবিতে ফাঁসির দড়ি ঝুলিয়ে কুশপুত্তলিকা টাঙাল দুষ্কৃতকারীরা- খবরের থাম্বনেইল ফটো

মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরের তিনটি পৃথক স্থানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় তিন শীর্ষ নেতার ছবি সম্বলিত কুশপুত্তলিকা ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার দিবাগত গভীর রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিবর্গ পৌর শহরের পৃথক তিন পয়েন্টে এসব কুশপুত্তলিকা টাঙিয়ে রেখে যায়।


সরেজমিনে দেখা যায়, গাংনী-হাটবোয়ালিয়া রোডের গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে, র‍্যাব ক্যাম্পের অদূরে এবং স্থানীয় সবজি বাজারে কুশপুত্তলিকাগুলো ঝুলছিল। কুশপুত্তলিকাগুলোতে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় তিন নেতা—নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সার্জিস আলমের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবির নিচে লেখা রয়েছে, “তরুণ সমাজকে ললিপপ হাতে ধরিয়ে দেশ নিল রসাতলে, এদের প্রতিহত করুন, এদের ঘৃণা করুন।”


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে পথচারী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা এগুলো দেখতে পান। গাংনী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, সকালে স্কুলে আসার সময় সে স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে কুশপুত্তলিকাটি ঝুলতে দেখে। সেলিম নামের স্থানীয় এক ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী মন্তব্য করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা হয়তো এনসিপিকে প্রতিহত করতে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।


খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলগুলোতে পৌঁছে কুশপুত্তলিকাগুলো সরিয়ে ফেলে।


আজ সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে গাংনীতে এনসিপির একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, এই পথসভাকে কেন্দ্র করেই কোনো গোষ্ঠী জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আতঙ্ক ছড়ানো বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে এই কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকতে পারে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কে বা কারা এই কাজের পেছনে রয়েছে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।


ঘটনাটি সম্পর্কে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাকিল আহমেদ বলেন, “আমার ধারণা দুষ্কৃতকারীরা এই কাজটি করেছে, যারা মূলত জুলাইয়ের চেতনাকে মুছে ফেলতে চায়। তবে এই ধরনের ঘৃণ্য কাজ করে কেউ সফল হবে না। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে এই সন্ত্রাসী দুষ্কৃতকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এ বিষয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, রাতের আঁধারে যেই বা যারা এই দুষ্কর্ম ঘটিয়ে থাকুক না কেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে।


সম্পর্কিত খবর