ক্যাম্পাস
ম্যানেজিং কমিটিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার প্রতিবাদে পাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের দুটি আবাসিক হল প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক আখ্যা দিয়ে তা দ্রুত বাতিলের দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে শিক্ষার্থীরা ‘কমিটি না মেধা? মেধা মেধা’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’ এবং ‘ক্ষমতা না জনতা? জনতা জনতা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ আবু সামা বলেন, “দুই বছর আগে ‘কোটা না মেধা’ স্লোগানে ছাত্রসমাজ জেগে উঠেছিল। আজ আবার সরকার একটি হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। কোনোভাবেই যেন এ সিদ্ধান্ত গেজেটভুক্ত না হয় এবং অবিলম্বে তা বাতিল করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে তিনটি পদে নিয়োগেও দুর্নীতি ও বিপুল অর্থের লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তটি দলীয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে পারে। এতে সাধারণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, গণবিরোধী এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করুন।”
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম বলেন, “আমরা একটি অযৌক্তিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সমবেত হয়েছি। আমরা জানতে পেরেছি, এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রত্যাহার করে তা স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি, এতে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবের সুযোগ তৈরি হবে।”
তিনি বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট; শিক্ষক নিয়োগ হতে হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। ‘কোটা নয়, মেধা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হব, যদি মেধার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়, স্বজনপ্রীতি বা অর্থের প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, অবিলম্বে এই অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন এবং এনটিআরসিএর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা বহাল রাখুন।”
উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশপর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগে এখন থেকে সুপারিশ করার ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছে থাকবে না। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।







