ক্যাম্পাস

রাবিতে জুলাই চিত্র প্রদর্শনীতে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ভারী

রাবি প্রতিনিধি

শেয়ারঃ

রাবিতে জুলাই চিত্র প্রদর্শনীতে একাত্তরের চেয়ে চব্বিশ ভারী - খবরের থাম্বনেইল ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ আয়োজিত জুলাই চিত্র প্রদর্শনীতে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে চিত্রকর্মটি অপসারণ করা হয়েছে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ কে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই চিত্রপ্রদর্শনীর নাম দেওয়া হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রঙ-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’। গতকাল রোববার (৯ আগষ্ট) সকালে এ প্রদর্শনী শুরু হয়। যা চলবে আগামী ১১ আগষ্ট রাত ৮ টা পর্যন্ত


অঙ্কিত শিল্পকর্মটিতে দেখা যায়, একটি হাতের মুষ্ঠি দাঁড়িপাল্লা ধরে আছে। দাঁড়িপাল্লার একপাশে লাল রঙে ৭১ এবং অপরপাশে কালচে রঙে লেখা ২৪। ২৪’ লেখা পাল্লাটি খানিকটা নিচের দিকে হেলে আছে দেখানো হয়েছে। দেখলে মনে হবে, একাত্তরের তুলনায় চব্বিশের ওজন বেশি।


অনেকে দাবি করছেন, এই শিল্পকর্মে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেয়ে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রবণতা জনগণের ঐক্য নষ্ট করে। এতে কেবল পরাজিত শক্তিগুলোরই লাভ হয়।


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ১৯৭১ আমাদের মূল ইতিহাস। ২০২৪ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলেও ১৯৭১-কে খাটো করে ২০২৪ বড় হয় না। একটি ইতিহাসকে প্রতিষ্ঠা করতে আরেকটি ইতিহাসকে অপমান করার প্রয়োজন নেই।


তবে শিল্পকর্মটির শিল্পী ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন । তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জুলাইয়ের পর থেকেই একটি গোষ্ঠী চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে আসছে। আমার কাজটিকে সে অর্থে দেখা ঠিক হবে না; এটি অলংকারিক উপস্থাপন। আমি মূলত একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের এই অসম তুলনাটিকে বুঝাতে চেয়েছি।


জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডীন মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি আজ ক্যাম্পাসে ছিলাম না। তাই ছবির বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কিছু জানি না। এমনকি ছবিগুলো দেখার সুযোগও হয়নি।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান বলেন, “অনুষ্ঠানটি মূলত চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। আমাদের দায়িত্ব ছিল সিনেটে প্রদর্শনীর জায়গা নির্ধারণ করা। ছবিটির বিষয়ে জনসংযোগ প্রশাসন কিছুই জানতো না। পরবর্তীতে আমাদের চোখে পড়েছে। আমরা বিতর্কিত কোনো কিছু রাখতে চাচ্ছি না। তাই আমরা শিল্পকর্মটি সরিয়ে ফেলেছি।


সম্পর্কিত খবর